Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপাচার্যকে দেখে ‘চোর চোর চোরটা’ স্লোগান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির নজিরবিহীন বিক্ষোভ

চোর স্লোগান থেকে রেহাই পেলেন না বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও। ‘চোর চোর চোরটা, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিটা’। বৃহস্পতিবার এমনই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্যাম্পাস রাজবাড়িতে ভিসির অফিসের নীচে বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি।

উপাচার্যকে দেখে ‘চোর চোর চোরটা’ স্লোগান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির নজিরবিহীন বিক্ষোভ
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চোর স্লোগান থেকে রেহাই পেলেন না বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও। ‘চোর চোর চোরটা, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিটা’। বৃহস্পতিবার এমনই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্যাম্পাস রাজবাড়িতে ভিসির অফিসের নীচে বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি। প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতারা তৃণমূলকে দেখলেই চোর চোর স্লোগান তুলছে। কিন্তু ভিসিকেও যে এ জাতীয় স্লোগান শুনতে হতে পারে, এমনটা ভেবেই অনেকে শিউরে উঠছেন। ছাত্রছাত্রীদের কথা শুনে বুদ্ধিজীবীরা লজ্জায় মাথানত করছেন। তাঁদের অনেকেই বলছেন, একজন উপচার্যকে নিয়ে পড়ুয়াদের মুখে এমন কথা মানায় না। 

Advertisement

ভিসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে এর আগেও এবিভিপি বিক্ষোভ দেখিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের শিক্ষক এবং কর্মীদের সংগঠনও বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কয়েকদিন আগে ভিসি নিজের অফিস থেকে নীচে নেমে এসে গেরুয়া শিবিরের শিক্ষক সংগঠনের কাছে থেকে স্মারকলিপি নিয়েছিলেন। তা নিয়েও সমালোচনা হয়। কিন্তু এদিন ছাত্রছাত্রীদের চোর স্লোগান যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা ভিসির উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কলেজের বিভিন্ন সেমেস্টারের রেজাল্ট নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরীক্ষাও নির্দিষ্ট সময়ে হচ্ছে না। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁরা স্কলারশিপ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। কলেজের ভর্তির ফি অনেক বাড়ানো হয়েছে। তা কমাতে হবে। ফি দিতে পড়ুয়াদের সমস্যা হচ্ছে। ফি দিতে না পেরে অনেকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কলেজগুলির কমন রুমগুলির পরিকাঠামো উন্নতি করার দাবি জানানো হয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা পিকু ক্ষেত্রপাল বলেন, ছাত্রছাত্রীদের এই দাবিগুলির সঙ্গে ভিসিকে চোর বলার কী সম্পর্ক রয়েছে বুঝতে পারছি না। একজন উপাচার্যর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।
বিক্ষোভকারী সুজন কুণ্ডু বলেন, কলেজগুলিতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। ভিসি সেগুলি জানার পরও সমাধান করছেন না। সময়ে ফলাফল না বেরনোয় অনেকেই স্কলারশিপ পাচ্ছেন না। এছাড়া কলেজগুলির পরিকাঠামো ঠিক নেই। ভিসি উদ্যোগ নিলে এধরনের সমস্যা থাকত না। আর এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের দাবিগুলি না মানা হলে আগামী দিনেও আন্দোলন করা হবে। কলেজগুলিতে ফি কেন এত বাড়ানো হল? তার জবাব ভিসিকেই দিতেই হবে। আড়াই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। সেটা নিয়ে কী ব্যবস্থা হয়েছে? তাও পড়ুয়ারা জানে না। এসব কারণেই বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এক অধ্যাপক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু একজন ভিসির বিরুদ্ধে ‘চোর চোর চোরটা। আমাদের ভিসিটা’। এধরনের স্লোগান দেওয়া কাম্য নায়। ভিসি শঙ্করকুমার নাথ ফোন রিসিভ না করায় এবিষয়ে তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি। মেসেজ করলেও উত্তর মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ