নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের দোকানগুলিতে দড়ি বাঁধা এবিটিএ টেস্ট পেপারের পাহাড়। ৮৮ বছর পেরিয়েও পড়ুয়া ও মাস্টারমশাইদের কাছে এর চাহিদা তুঙ্গে। এত বছর বাদেও টেস্ট পেপারের মোড়ক বদলায়নি। সেই একইরকম লাল-হলুদ রঙের প্রচ্ছদ। সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে। নিয়ম মানতে গিয়ে এখন রাজ্যের সমস্ত স্কুলের প্রশ্নপত্রও দেওয়া যায় না। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির (এবিটিএ) বক্তব্য, এখন আমরা একই দিনে রাজ্যের সর্বত্র টেস্ট পেপার পৌঁছে দিতে পারি। তার ফলে পড়ুয়াদের অনেকটাই সুবিধা হয়।
কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে দেখা গেল, পড়ুয়ারা যেমন এই টেস্ট পেপার কিনতে আসছেন, তেমনই পথচলতি মানুষও টেস্ট পেপার দেখে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ছেন। কেউ দাম দেখে বলছেন, আমাদের সময় ৫০-৬০ টাকা দাম ছিল। এখন তো বলছে, ১৭০-১৮০ টাকা। দোকানিদের কথায়, এখন অন্যান্যরাও টেস্ট পেপার প্রকাশ করে। তার তুলনায় এবিটিএ টেস্ট পেপারের দাম কম। তবে চাহিদা এখনও সেই আগের মতোই রয়েছে। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯২১ সালে। তারা টেস্ট পেপার প্রকাশ করছে ১৯৩৭ সাল থেকে। সংগঠনের সম্পাদক সুকুমার পাইন বলছিলেন, ‘টেস্ট পেপার প্রকাশিত হচ্ছে স্বাধীনতার আগে থেকে। বহু বিশিষ্ট মানুষ তা ব্যবহার করেছেন। এখন এবিটিএ টেস্ট পেপার মানে আলাদা ব্যাপার। চাহিদা বেশ ভালোই।’ এখন রাজ্য সরকার একটি টেস্ট পেপার বিনামূল্যে পড়ুয়াদের বিতরণ করে। এবিটিএ মূলত বাম মনোভাবাপন্ন শিক্ষক সংগঠন বলে পরিচিত। সুকুমারবাবুর বক্তব্য, ‘টেস্ট পেপারের মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। সব পড়ুয়ারা এটি দেখে অনুশীলন করে। আগে আমরা জেলার সরকারি বা অন্যান্য স্কুলের প্রশ্নপত্র দিতাম। পরবর্তীতে সরকার ফরমান দেয়, সরকারি স্কুলের প্রশ্নপত্র কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারের নিয়ম আমাদের মানতে হবে।’ জটিলতা সত্ত্বেও এবিটিএ টেস্ট পেপার কোভিডকালেও প্রকাশিত হয়েছে। ‘আমাদের টেস্ট পেপার ১১ ফর্মার বই। আমরা চেষ্টা করি যতটা সম্ভব কম দামে পড়ুয়াদের হাতে টেস্ট পেপার তুলে দিতে। একটা সময় এবিটিএ’র অফিসের বাইরে লোকজন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এখন সারা রাজ্যে একদিনে প্রকাশ করছি’ বললেন সুকুমার পাইন।