Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের যোগ্য আবেদনকারী খুঁজতে হিমশিম সমীক্ষকদের

আবাসের যোগ্য আবেদনকারী খুঁজতে হিমশিম সমীক্ষকদের
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ‘হারাধনের পাঁচটি ছেলে, গেল বনের ধার। একটি গেল বাঘের পেটে, রইলো বাকি চার।’—রানাঘাটের ‘হারাধনবাবু’রও পাঁচ ছেলে। পঞ্চম সন্তান বাঘের পেটে না গেলেও তাঁকে খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকের। খোঁজার কারণ, ‘হারাধনবাবু’র পাঁচ ছেলেই আবাসের বাড়ি পেতে আবেদন করেছেন। চারজনের কাঁচাবাড়ি। কিন্তু একজনের পাকা অট্টালিকা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই ভাইকে নিয়ে মুখ খুলছেন বাকি চার ভাই! এমন ঘটনায় তাজ্জব আধিকারিকরা। 
Advertisement
বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সার্ভে। ফিল্ড ভিজিট করতে গিয়েই নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আধিকারিকদের। রানাঘাট মহাকুমার একাধিক ব্লকে কোথাও শোয়ার ঘরে খাটের নিচে মিলেছে মাটির উনুন! কোথাও আবার একই পরিবারের যত সদস্য তত আবেদন। কেউ আবার আবাসের ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় থেকে শেষে সদ্য বাড়ি বানিয়েছেন। আধিকারিকরা যেতেই আকুলভাবে বলে উঠছেন—‘আর কটা দিন আগে এলেন না বাবু!’
রানাঘাট মহাকুমার এক গ্রামের বাসিন্দা হারাধন বিশ্বাস (নাম পরিবর্তিত)। তাঁর মালিকানাধীন জমিতেই বসবাস করেন পাঁচটি ছেলে। সকলেই আবাসের বাড়ি পেতে আবেদন করেছেন। তার ভিত্তিতে সার্ভে করতে যান আধিকারিকরা। তাঁরা দেখেন, একই জমিতে মোট চারটি কাঁচা বাড়ি এবং একটি পাকা বাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই যে ভাইয়ের পাকা বাড়ি তিনি আবাসে ঘর পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু সেই অট্টালিকার মালিক কোন ভাই? আধিকারিকের কাছে স্বীকার করেননি কেউই। প্রত্যেকেই এক একটি মাটির বাড়ি দেখিয়ে বলেন, এটা আমার। সেইসঙ্গে নিজেদের দরিদ্র প্রমাণ করতেও মরিয়া চেষ্টা চালান। আবার একটি মাটির বাড়িকে নিয়ে কাড়াকাড়িও পড়ে যায় ভাইদের মধ্যে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়। সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হন আধিকারিকরা। 
শান্তিপুরের দেউলি গ্রামে আবাসের ঘর পেতে আবেদনকারীর কাণ্ড দেখে হেসে গড়িয়ে পড়েন সরকারি কর্তারা। ওই আবেদনকারী একজন মহিলা। মাটির একচালা রান্নাঘরকেই নিজের বাড়ি বলে দাবি করেন। পাশেই একটি পাকা বাড়ি। সেটি ওই মহিলার বলেই দাবি স্থানীয় সূত্রের। রান্নাঘরে একটি খাট পেতে তাতে বিছানা করে রাখা হয়েছে। যাতে আধিকারিকরা নিশ্চিত হন এক চিলতে মাটির ঘরটি তাঁরই।  কিন্তু শেষরক্ষা আর হয়নি। মহিলার ফন্দিফিকির ধরে ফেলেন আধিকারিকরা। তাঁদের কথায়, ঘরটি দেখেই সন্দেহ হয়েছিল। খানিক নিচু হয়ে খাটের তলায় নজর দিতেই পর্দা ফাঁস।  খাটের তলায় মাটির উনুন। পাশে পড়ে টাটকা সব্জির খোসা!  রানাঘাট ১ ব্লকে এক ব্যক্তি অনেক আগেই আবাস প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্যের টালবাহানায় বাড়ি আর পাননি। শেষে ধারদেনা করে পাকাবাড়ি করে ফেলেন। সরকারি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে যেতেই গলায় আক্ষেপের সুর—‘আর কটা দিন আগে এলেন না বাবু? দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ঘর পাওয়ার আশায় বসে থেকে গত মাসেই বাড়িটি করেছি। আমি তা হলে আবাসের টাকা পাব না?’  রানাঘাট ১, রানাঘাট ২, শান্তিপুর, হাঁসখালির মত একাধিক ব্লকে আবাসের বাড়ি পেতে হরেক কারসাজি করছেন আবেদনকারীরা। ফলে যোগ্য উপভোক্তাকে চিহ্নিত করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি কর্তাদের।
সম্পর্কিত সংবাদ