Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের তালিকার সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, পূর্ব বর্ধমানে উধাও ১৬০০ পরিবার!

আবাসের তালিকার সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, পূর্ব বর্ধমানে উধাও ১৬০০ পরিবার!
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আবাস যোজনার তালিকায় থাকা পূর্ব বর্ধমানে ১৬০০টি পরিবার উধাও। তারা কোথায় গেল, তা জানতে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে প্রশাসন। সমীক্ষক দল একাধিকবার এলাকায় গিয়েও ওই পরিবারগুলির হদিশ পায়নি। তারা কোথায় রয়েছে তা গ্রামবাসীরাও জানাতে পারেনি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলি থেকেও বহু পরিবার ‘লাপাতা’ হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় সবার আগে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। বিজ্ঞপ্তি জারির পরও পরিবারগুলির খোঁজ না পাওয়া গেলে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। 
Advertisement
এক আধিকারিক বলেন, ওই পরিবারগুলি কর্মসূত্রে অন্য কোথাও থাকতে পারে। মুর্শিদাবাদ বা পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে বহু পরিবার বাইরে থাকে। তারা নিজেদের জন্মভিটে ছেড়ে কাজের জায়গায় বাড়ি করতে পারে। এছাড়া অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) শুভলক্ষ্মী বসু বলেন, গ্রামে গিয়ে যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না তাঁদের নামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তারপরও তাঁরা যোগাযোগ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এক লক্ষ ২৫হাজার পরিবারের নাম আবাস যোজনার তালিকায় ছিল। তারমধ্যে ৩৫হাজার পরিবারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ১৬০০ পরিবারের নাম এখনও বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। অনেক পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার নিয়ে বাইরে থাকেন। এক্ষেত্রে তেমনটা হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। আবাস যোজনার তালিকা একাধিকবার সমীক্ষা করা হয়েছে। প্রথমে সরকারি কর্মীরা সমীক্ষার কাজ করেন। পরে অতিরিক্ত জেলাশাসক, এসডিও, বিডিওরা সমীক্ষার কাজ করেন। এমনকী জেলাশাসক এবং পুলিস সুপারও কয়েকটি এলাকায় যান। তালিকায় থাকা ২০শতাংশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 
প্রাথমিক তালিকা তৈরির পর উপভোক্তাদের নাম প্রকাশ্যে আনা হবে। ব্লক অফিস বা জেলাশাসকের দপ্তরে সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকায় কোনও অসঙ্গতি থাকলে এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করতে পারেন। আধিকারিকরা ফের যাচাই করবেন। উপভোক্তাদের তালিকা গ্রামসভাতেও পাঠানো হবে। কারও নাম নিয়ে আপত্তি থাকলে সেখানেও গ্রামবাসীরা জানাতে পারবেন। পাকা বাড়ি রয়েছে এমন কেউই এই তালিকায় থাকবে না বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। 
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ডিসেম্বর মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের টাকা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখায় অনেক পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিল। অবশেষে রাজ্য সরকার টাকা দিতে উদ্যোগী হওয়ায় উপভোক্তাদের মুখে হাসি ফুটতে চলেছে। অনেকে বাড়ির জন্য ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনকারীদের তালিকাও আধিকারিকরা যাচাই করেছেন। কিন্তু উধাও হওয়া পরিবারগুলিকে নিয়ে প্রশাসন ধন্দে পড়ে গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ