শ্রীকান্ত পড়্যা, কোলাঘাট: আবাস যোজনার টাকা পেতে ছেলেদের ছেড়ে আলাদা থাকার গল্প বানিয়েও রেহাই পেলেন না কোলাঘাটের কুমারহাট গ্রামের জলধর মান্না। ওই প্রকল্পে সুপার চেকিংয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জলধরের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। পাকা বাড়ি থাকার পরও আবাস যোজনার টাকা পেতে ছলাকলার শেষ নেই। কেউ গোয়ালঘর, কেউ আবার রান্নাঘরে চৌকি পেতে আবাসের টাকা আদায়ে সংসার পাতছেন। এসব অনিয়ম আটকাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সুপার চেকিং চলছে। জেলাশাসক, সকল অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, জেলা ও মহকুমার কর্মরত এগজিকিটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিডিওরা সুপার চেকিং করছেন। তাতেই রোজ আবাসের টাকা হাতানোর নিত্যনতুন কৌশল সামনে আসছে।
১০নভেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক কোলাঘাটের বিডিওকে নিয়ে ওই ব্লকের পুলশিটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারহাট গ্রামে সুপার চেকিংয়ে গিয়েছিলেন। দেউলিয়া বাজার থেকে খন্যাডিহি যাওয়ার পিচরাস্তার ধারে কুমারহাট গ্রামে জলধর মান্নার বাড়ি। একতলার মস্ত পাকা বাড়ি। সামনে একটি ছোট মাটির ঘর। সেটি বন্ধ থাকে। জলধরবাবুর নাম আবাস প্লাস তালিকায় রয়েছে। পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও জলধরবাবু আবাস যোজনায় টাকা পেতে বাজি ধরেছিলেন ওই ছোট মাটির বাড়িটিকে। এজন্য নিজেকে কুঁড়েঘরের মালিক বলে জাহির করেন। অপরদিকে, পিচ রাস্তার ধারে মস্ত পাকা বাড়িটির মালিক তাঁর দুই ছেলে বলে ভেরিফিকেশনের সময় সওয়াল করেন।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি এবং বিডিও অর্ঘ ঘোষ সুপার চেকিংয়ে জলধরবাবুর বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। পেশায় ক্ষৌরকার জলধরবাবু জেলাশাসকের সামনে জানান, কুঁড়েঘরের মালিক তিনিই। মস্ত পাকাবাড়ির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। তাঁর দুই ছেলে ভবতোষ ও শঙ্কর ওই পাকাবাড়ি বানিয়েছে। দুই ভাই সেখানে থাকে। ওই কথা শোনার পরই জেলাশাসক জলধর ও তাঁর স্ত্রী দুই ছেলের সঙ্গে থাকেন কিনা সেটা যাচাই করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার লোকজন অবশ্য জেলাশাসকের কাছে আসল ঘটনা খুলে বলেন। তাঁরা জানান, পাকা বাড়িতেই গোটা পরিবার বসবাস করে। সামনের ওই বাড়ি বন্ধই থাকে। আবাস প্লাসের ভিজিটের জন্য সেই কুঁড়েঘরে তক্তপোশ পাতা হয়েছে। এরপরই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জলধরের নাম আবাস তালিকা থেকে কাটার জন্য বিডিওকে নির্দেশ দেন ডিএম।
কোলাঘাটের বিডিও বলেন, জেলাশাসক সুপার চেকিং করে কুমারহাটের ওই ব্যক্তির নাম আবাস তালিকা থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো আমরা বাদ দিচ্ছি। যদিও বুধবার নিজের বাড়িতে এনিয়ে জলধরবাবু বলেন, দুই ছেলে ওই পাকাবাড়ি বানিয়েছে। সেখানে ছেলেরাই থাকে। আমি আর স্ত্রী কাঁচাবাড়িতে থাকি। আমি আবাস যোজনায় উপযুক্ত উপভোক্তা। কিন্তু, জেলাশাসক সবটা না শুনে আমার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। পুলশিটা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রবীন্দ্রনাথ মান্না জলধরবাবুর প্রতিবেশী। উপপ্রধান বলেন, জেলাশাসক সুপার চেকিংয়ে এসেছিলেন। জলধর মান্নার বাড়িতেও গিয়েছিলেন। তারপর কী হয়েছে সবটা জানা নেই।