Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের টাকা পেতে বাবার পেল্লাই বাড়ি ছেড়ে ত্রিপলের ছাউনিতে মেয়ে  

আবাসের টাকা পেতে বাবার পেল্লাই বাড়ি ছেড়ে ত্রিপলের ছাউনিতে মেয়ে
 
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাত ফুটের পাকা দেওয়াল। তার মাঝে ঝুপড়ি ঘর। সামনে ত্রিপলের ছাউনি। আবাস সার্ভেতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা প্রশ্ন করতেই তালিকায় নাম থাকা মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবার বাড়িটা না পেলে শীতে আর বাঁচব না, কাতর আর্জি মহিলার। পাশেই বাবার পেল্লাই বাড়ি। বাবা দেখে না? প্রশ্ন করতেই মহিলার উত্তর— না, কোনও যোগাযোগই নেই। মহিলার জব কার্ড দেখতে চাইতেই পর্দা ফাঁস। একটি জব কার্ডেই বাবা, মা ও মেয়ের নাম। কারসাজি ধরা পড়ে যায়। বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন মেয়ে। আরও একটি বাড়ি পাওয়ার লালসায় এই মিথ্যা অভিনয়। ঘটনাটি ঘটেছে বারাবনি থানার দোমাহানি এলাকায়।
Advertisement
দ্বিতীয় ঘটনাটি বারাবনি ব্লকের মাজিয়াড়ার। তদন্তে গিয়ে প্রশাসনের টিমের এখানেও বিচিত্র অভিজ্ঞতা। তালিকায় যে উপভোক্তার নাম রয়েছে সেই মহিলা অত্যন্ত বৃদ্ধ। সার্ভেতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও ত্রিপলের ছাউনি। বৃদ্ধার ঘুমোন কোথায়? দেখা যাচ্ছে, একটি ছেঁড়া বস্তা, সেটাই নাকি তাঁর বিছানা। বিছানা দেখেই খটকা লাগে অফিসারদের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন পাশের আড়াই তলা উঁচু অট্টালিকাতেই ছেলের সঙ্গে থাকেন মা। পাশের গোয়ালঘরকে নিজের বাসস্থান দেখিয়ে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে চেয়েছিলেন। 
এই দু’টি ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রতি ব্লকেই এই ধরনের অসাধু কাণ্ডকারখানা নজরে পড়েছে প্রশাসনের। কোথাও গোয়ালঘর, কোথাও অস্থায়ী ছাউনি বানিয়ে নিজেদের নামে আবাসের টাকা তুলতে মরিয়া ছিলেন অনেকেই। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের স্ক্রুটিনিতে ফাঁক গলে গেলেও পরের পর্যায়ের সার্ভেতে জালে পড়েছে বহু ‘প্রতারক’। যারা ধোকা দিয়ে সরকারি টাকা তুলতে সচেষ্ট ছিল। রাজ্য সরকার এবার আবাস প্রকল্পে যথেষ্ট মানবিক। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এগুলি বাংলার বাড়ি। সেই বাড়ি পাওয়ার জন্য বাইক থাকলে তা বাধা হচ্ছে না। বাড়ির একটি দেওয়াল পাকা হলেও ছাড় মিলছে। প্রশাসনের এই উদার নীতির কেউ কেউ অন্যায় ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। 
প্রশাসনের দাবি, এবার সার্ভেতে যেমন আমরা মানবিক পদক্ষেপ করেছি, তেমনি কোনও রকম কারসাজির ফাঁদে পা দেওয়া হয়নি। একদিকে যেমন লক্ষ্য ছিল, একজন যোগ্য মানুষেরও যেন তালিকা থেকে নাম কাটা না যায়। তেমনি নজর ছিল একজন অযোগ্য ব্যক্তিও যেন বাড়ি না পায়। সেই কারণে তিন স্তরে চেকিং হয়েছে। তাতেই জেলার প্রায় সাত হাজার নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রশাসনিক স্তরে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা নিয়ে গ্রাম সভায় অনুমোদন করানো হবে। তখনও এলাকাবাসীরা অভিযোগ জানাতে পারবেন।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, আমরা যেমন চাই একজন যোগ্য মানুষও যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। ঠিক তেমনি দেখা হচ্ছে কোনও অযোগ্য মানুষ যেন তালিকায় ঢুকে না পড়েন। 
সম্পর্কিত সংবাদ