Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের টাকা ঢুকলেই ঋণ-বকেয়া কাটছে ব্যাঙ্ক

আবাসের টাকা ঢুকলেই ঋণ-বকেয়া কাটছে ব্যাঙ্ক
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকায় থাবা বসাচ্ছে ব্যাঙ্ক। উপভোক্তার বকেয়া ঋণ বাবদ তা কেটে নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে মাথায় হাত উপভোক্তাদের। রাজ্য সরকারের টাকা পেয়েও ঘর বানাতে পারছেন না তাঁরা। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার মানুষের মাথায় ছাদ দেওয়ার উদ্যোগ ব্যহত হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ব্যাঙ্ক কখনওই উপভোক্তার টাকা এইভাবে বকেয়া ঋণ বাবদ কাটতে পারে না। জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবে বলে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জ ব্লকের মাটিয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শঙ্করী হাজরার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল।‌ কিন্তু তিনি জানান, বকেয়া ঋণ বাবদ সেই টাকা কেটে নেয় ব্যাঙ্ক। আর্থিক দূরাবস্থার কারণে ব্যাঙ্ক থেকে তিনি লোন নিয়েছিলেন। কিন্তু তা শোধ করতে পারেননি। এই অবস্থায় বাংলার বাড়ির টাকা ঢুকতেই যা কালীগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন। শঙ্করীদেবী বলেন, ‘বাংলার বাড়ির জন্য টাকা পেয়েছিলাম। কিন্তু পূর্ববর্তী লোনের টাকা হিসেবে ব্যাঙ্ক তা কেটে নেয়। আমি যাতে ঘর তৈরির জন্য সেই টাকা ব্যবহার করতে পারি, তার ব্যবস্থা করে দিলে উপকৃত হব।’ কালীগঞ্জের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ির টাকা ও ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে প্রায় ৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চাইছ প্রশাসন। 
নদীয়া জেলা পরিষদের এক আধিকারিক বলেন, ‘উপভোক্তার প্রাপ্য সরকারি টাকা কোনওভাবেই ব্যাঙ্ক লোনের বকেয়া হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে গরিব মানুষের উপকারের জন্য এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। এমনকী ব্যাঙ্ক এই টাকার উপর কোনও আলাদা চার্জও কাটতে পারবে না। আমরা সমস্যার সমাধান করতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। প্রয়োজনে পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
জানা গিয়েছে, যে সমস্ত উপভোক্তার বাংলার বাড়ির টাকা ব্যাঙ্ক কেটে নিয়েছে, তাঁরা আর সেই টাকা তুলতে পারবেন না।‌ তবে ব্যাঙ্ক চাইলে উপভোক্তার বিকল্প অ্যাকাউন্টে তা পাঠিয়ে দিতে পারে। তাহলে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে উপভোক্তা ঘরে তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
নদীয়া জেলায় প্রাথমিকভাবে ৪৬ হাজার উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। তাতেই এই লোন সংক্রান্ত সমস্যার দেখা গিয়েছে। নদীয়া জেলার মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি উপভোক্তা বাংলার বাড়ির টাকা পাবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ