সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাটির বাড়ির উপর অগোছালো খড়ের ছাউনি। অর্থাভাবে প্রতিবছর সেই ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই খড়ের উপর ছেঁড়া ত্রিপল চাপিয়ে কোনওরকমে বসবাস। বছর পাঁচেক আগে তাঁর দুর্দশা দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বাড়ি প্রাপকের তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা হয়। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও বরাদ্দ হয়। কিন্তু প্রশাসনিক ভুলে সেই টাকা চলে যায় ১৮০০ কিমি দূরের মহারাষ্ট্রের একটি অ্যাকাউন্টে। যা আজও উদ্ধার হয়নি। এদিকে পাকা বাড়ির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে রামপুরহাট ১ ব্লকের বনহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলপাহাড়ি গ্রামের বছর চল্লিশের আহ্লাদী সর্দার।
Advertisement
বহু বছর আগে আহ্লাদীর স্বামী মারা যান। শ্বশুর, শাশুড়ি চার ছেলেমেয়ে এক চিলতে মাটির ঘড় ও খড়-ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া বাড়ি তাঁর শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। সংসার চালাতে দিনমজুরের কাজে যোগ দেন আহ্লাদী। তাঁর জীবন সংগ্রাম ও বাড়ির অবস্থা দেখে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর নাম তোলেন সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু অভিযোগ, বাড়ির টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। ব্লক অফিসে খোঁজ নিতে এসে দেখেন তিনি বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছেন। এরপরই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। অভিযোগ, ব্লক প্রশাসনের কাছে বার বার জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। পরবর্তী সময়ে ব্লক অফিস থেকে জানানো হয়, তাঁর নামে বরাদ্দ অর্থ মহারাষ্ট্রের একটি অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। এরপর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা তিনি পাননি। আহ্লাদী বলেন, তালিকায় নাম ওঠার পর থেকে পাকা বাড়িতে বসবাস নিয়ে মনে আশা জেগেছিল। কিন্তু টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর তা আজও পেলাম না। এই তিন বছরে বেশ কয়েকবার কাজ কামাই করে ব্লক অফিসে গিয়েছি। কিন্তু টাকা ফেরানোর আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলছে না। আমার নামে বরাদ্দ টাকা অন্য কেউ ব্যবহার করছেন। এদিকে আমি কষ্টে দিনযাপন করছি। অথচ এই গ্রামে আমার মতো অনেকেই সরকারি সুবিধা পেয়ে পাকা বাড়িতে বসবাস করছেন।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ওই মহিলার বাড়িটির খুবই জীর্ণ দশা। বৃষ্টি হলে ফুটো চাল দিয়ে জল পড়ে। প্রশাসনের ভুলে তাঁর এই অবস্থা। দুঃস্থ মানুষ হওয়ায় ব্লক প্রশাসনও টাকা উদ্ধারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
এব্যাপারে বনহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আইজি খাতুন বলেন, ওই মহিলার নাম বাড়ি প্রাপকের তালিকায় উঠেছিল। প্রথম কিস্তির টাকাও বরাদ্দ হয়। কিন্তু সেই টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ায় এই বিপত্তি। বিষয়টি বিডিও অফিসে জানানো আছে।
অন্যদিকে বর্তমান বিডিও অঙ্কুর মিত্র বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই। ওই মহিলা তথ্য দিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
বর্তমানে গ্রামের অনেকের আবাসের তালিকায় নাম উঠেছে। তাঁদের আনন্দ দেখে ভাঙা ঘরে বসে চোখের জল ফেলে চলেছেন আহ্লাদী। প্রশাসন, নাকি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এটা হল, সেটা এখনও অজানা তাঁর কাছে। তবে বেলপাহাড়ি গ্রামের সকলেই চাইছেন আহ্লাদীর পাকা বাড়ি হোক।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ওই মহিলার বাড়িটির খুবই জীর্ণ দশা। বৃষ্টি হলে ফুটো চাল দিয়ে জল পড়ে। প্রশাসনের ভুলে তাঁর এই অবস্থা। দুঃস্থ মানুষ হওয়ায় ব্লক প্রশাসনও টাকা উদ্ধারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
এব্যাপারে বনহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আইজি খাতুন বলেন, ওই মহিলার নাম বাড়ি প্রাপকের তালিকায় উঠেছিল। প্রথম কিস্তির টাকাও বরাদ্দ হয়। কিন্তু সেই টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ায় এই বিপত্তি। বিষয়টি বিডিও অফিসে জানানো আছে।
অন্যদিকে বর্তমান বিডিও অঙ্কুর মিত্র বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই। ওই মহিলা তথ্য দিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
বর্তমানে গ্রামের অনেকের আবাসের তালিকায় নাম উঠেছে। তাঁদের আনন্দ দেখে ভাঙা ঘরে বসে চোখের জল ফেলে চলেছেন আহ্লাদী। প্রশাসন, নাকি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এটা হল, সেটা এখনও অজানা তাঁর কাছে। তবে বেলপাহাড়ি গ্রামের সকলেই চাইছেন আহ্লাদীর পাকা বাড়ি হোক।



