নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আবাস যোজনা প্রকল্প এবার সুপার চেকিং শুরু হতে চলেছে। জেলাশাসক, পুলিস সুপার, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমা শাসকের মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তালিকা যাচাই করবেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে চেকিং হয়ে গিয়েছে। তারপর সেই তালিকা ফের যাচাই করা হবে। কেউ যাতে অকারণে তালিকা থেকে বাদ না যান তা দেখার জন্যই সুপার চেকিং করা হবে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে চেকিংয়ের পরও যাতে কোনও বাড়ির মালিকের নাম তালিকায় না থাকে সেটাও দেখা হবে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, সঠিক তালিকা তৈরির জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে সমীক্ষার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। ২০ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে। আগামী দিনে আরও কিছু নাম বাদ যেতে পারে। সমীক্ষার কাজ শেষ করার জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন বাড়তি সময় চেয়েছে। ১৪ নভেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। আধিকারিকদের দাবি, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তা যাতে না হয় সেই কারণেই বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের সচিব পি উলগানাথন জেলায় এসে বৈঠক করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসনের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক আধিকারিক বলেন, সরকারি কর্মীরা প্রথম পর্যায়ে সমীক্ষার কাজ করার পর অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। অনেকের পকাবাড়ি রয়েছে। তারপরও সমীক্ষার সময় তাঁরা গোয়ালঘর বা রান্নাঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গ্রামবাসীদের তেমন সহযোগিতা পাননি। পাকাবাড়ির মালিকদের কেউ কেউ তালিকায় থেকে যেতে পারেন। সুপার চেকিংয়ে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে। কোনও সুপারিশ মেনে তালিকা তৈরি হবে না। গ্রামবাসীদের অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে নতুন করে তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে। সেটা ঠিক নয়। পুরনো তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পে যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁদের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সরকার প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে দ্রুত সমীক্ষার কাজ শেষ করার জন্য সমস্ত দপ্তরের কর্মীদের ময়দানে নামানো হয়েছে। ৭ থেকে ১০ নভেম্বর সমীক্ষায় বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সময় সরকারি ছুটি রয়েছে। ছুটির মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি কর্মীরা কাজ করবেন। জেলাশাসক বলেন, খুব ভালোভাবেই কাজ এগোচ্ছে। প্রতিদিনই পর্যলোচনা করা হচ্ছে। যাঁরা বাড়ি পাওয়ার উপযুক্ত তাঁরা বঞ্চিত হবে না। তালিকায় কোথাও অসঙ্গতি থাকলে এলাকার বাসিন্দারাও অভিযোগ করতে পারেন। বিভিন্ন অফিসে ড্রপবক্স রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ জানানো যেতে পারে। স্বচ্ছভাবেই তালিকা তৈরি করতে সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে।



