নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাহাড়পুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিডিও অফিসে এসেছিলেন হেমা ওরাওঁ। হাতে আবাসের ঘর পেতে সচিত্র আবেদনপত্র। তাঁর দাবি, ‘আমি খুবই গরিব মানুষ। কাঁচা ঘরে বাস করি। যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে আমার নাম নেই। সেজন্য বিডিও’র কাছে আবেদন জানালাম।’ প্রায় একই বয়ানে লেখা আবেদনপত্র নিয়ে বিডিও অফিস চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন বেলাকোবা পঞ্চায়েতের মোহিতনগর জোড়দিঘির বাসিন্দা গোপাল রায়। তাঁরও বক্তব্য, ‘আবাসের তালিকায় নাম ওঠেনি। তাই নতুন করে বিডিও’র কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’ পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা এক্রামুল হকের অভিযোগ, আবাস যোজনার সার্ভের সময় তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর তিনি দেখেন, সেখানে নাম নেই তাঁর। সেকারণে যাতে আবাসের তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়, সেজন্য বিডিও’র কাছে আবেদন করলেন তিনি। দক্ষিণ ধনতলা থেকে এসেছিলেন হিমাংশু মজুমদার। এদিন তিনিও জলপাইগুড়ি সদর বিডিও’র কাছে ঘরের জন্য লিখিত আবেদন জমা দেন।
Advertisement
একদিকে যখন আবাসের তালিকায় নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ জমা পড়ছে, তারই পাশাপাশি নতুন করে ঘরের জন্য আবেদন জমার হিড়িক পড়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক অফিসে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, দিনে দু’শোরও বেশি আবেদন জমা পড়ছে। অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে বিডিও অফিসে। কিন্তু এই আবেদনের ভিত্তিতে কি ঘর মিলবে? বিডিও মিহির কর্মকার বলেন, রাজ্য থেকে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি। আমাদের কাছে মানুষজন আসছেন, ঘরের আবেদন করছেন। আমরা তাঁদের আবেদন নিয়ে রাখছি। উপর মহল থেকে নির্দেশ এলে সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই আবাসের ঘরের জন্য ২০ হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। তবে এখন শুধু ওইসব আবেদন জমা নিয়েই বান্ডিল বেঁধে রাখা হচ্ছে। বিডিও অফিসে কার্যত আবেদনের পাহাড় জমেছে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্য কিংবা জেলা থেকে নির্দেশ এলে ওই আবেদনকারীদের নাম পোর্টালে তোলা হবে। তার পর ত্রিস্তর সমীক্ষা চালিয়ে ওই আবেদনকারীরা আবাসের ঘর পাওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করা হবে।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই আবাসের ঘরের জন্য ২০ হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। তবে এখন শুধু ওইসব আবেদন জমা নিয়েই বান্ডিল বেঁধে রাখা হচ্ছে। বিডিও অফিসে কার্যত আবেদনের পাহাড় জমেছে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্য কিংবা জেলা থেকে নির্দেশ এলে ওই আবেদনকারীদের নাম পোর্টালে তোলা হবে। তার পর ত্রিস্তর সমীক্ষা চালিয়ে ওই আবেদনকারীরা আবাসের ঘর পাওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করা হবে।



