Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের ঘর মেলেনি, তাঁবু খাটিয়েই বাস মঙ্গলকোটের দুই দুঃস্থ পরিবারের

আবাসের ঘর মেলেনি, তাঁবু খাটিয়েই বাস মঙ্গলকোটের দুই দুঃস্থ পরিবারের
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: পাঁচমাস আগে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে মাটির বাড়ি। তারপর থেকে আজও তাঁবু খাটিয়েই বসবাস করছে একটি পরিবার। অভিযোগ, পাকাবাড়ির মালিকদের নাম থাকলেও আবাস তালিকায় নাম নেই মঙ্গলকোটের বনকাপাশির দিনমজুর পরিবারের। স্ত্রী, মেয়ে নিয়ে খোলা জায়গায় ত্রিপল খাটিয়েই রয়েছে অসহায় পরিবারটি। গ্রামের আরও একটি পরিবার গ্রামের খোলা চাতালে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাকাবাড়ির জন্য কাতর আর্জি অসহায় দুই পরিবারের।
Advertisement
আবাসের তালিকা প্রকাশ হতেই ব্লক প্রশাসনের সমীক্ষকরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন কারা সরকারি পাকাবাড়ি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বহু এলাকায় পাকাবাড়ির মালিকদেরও আবাস তালিকায় নাম রয়েছে। এমনকী কাটোয়ায় এক মহিলার পাঁচ স্বামী দেখিয়ে পাঁচটি বাড়ির জন্য নাম এসেছে। শুধু তাই নয়, কাটোয়ার প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান, বর্তমান প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্যদের পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাস তালিকায় নাম আসায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বনকাপাশি গ্রামের বাসিন্দা ঝন্টু মাঝি তাঁর স্ত্রী মালা মাঝি ও মেয়ে কমলা মাঝিকে নিয়ে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন। ঝন্টু মাঝি দিনমজুরের কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালান। বর্ষায় তাঁদের মাটির বাড়িটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তখন থেকেই ওইখানেই তাঁরা তাঁবু খাটিয়েই বসবাস করছেন। খোলা আকাশের নীচেই রান্না করতে হচ্ছে তাঁদের। মালা মাঝি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি বহুবার পঞ্চায়েতে জানিয়েছি। তবুও ওরা বলছে আমাদের নাকি বাড়ির তালিকায় নাম আসেনি। আমার স্বামী লোকের জমিতে কাজ করেন। তাঁর বাড়ি করার সামর্থ্য নেই। 
ওই এলাকাতেই বাড়ি নীলু মাঝির। স্ত্রী মাধবী মাঝি ও এক ছেলে নিয়ে তিনি থাকেন। নীলুও দিনমজুর। তাঁর মাটির দোতলা বাড়ি বৃষ্টিতে ভেঙে বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে পাশেই গ্রামের খোলা চাতাল তথা সাংস্কৃতিক মঞ্চে বাস করছেন পাঁচ মাস ধরে। তিনি বলেন, ওরা বলছে এখান থেকে চলে যেতে। অথচ মাটির বাড়িটা বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে। আবাসের তালিকায় আমাদেরও নাম আসেনি। তাহলে যাদের পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও নাম এসেছে তারা এসে দেখে যাক আমরা কীভাবে বাস করছি। মঙ্গলকোটের বিডিও অনামিত্র সোম বলেন, আবাসের যে তালিকা বেরিয়েছে তা ২০১৮ সালের। সরকারি নিয়ম মেনেই আমাদের কাজ করতে হবে। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ