Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ল ৩৭ হাজার নাম

আবাসের ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ল ৩৭ হাজার নাম
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস যোজনার ভেরিফিকেশনে পূর্ব মেদিনীপুরে ২১শতাংশ নাম বাদ পড়ল। বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিও অফিসে আবাস যোজনায় যোগ্য, বাদপড়া এবং নিষ্ক্রিয়দের নামের তালিকা ঝোলানো হয়েছে। তাতে দেখা যায়, এই জেলায় মোট ৩৬হাজার ৮৩২জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এছাড়াও ৫০২৮জনকে নিষ্ক্রিয় দেখানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের খোঁজ নেই। এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আগামী ৩ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস এবং বিডিও অফিসে ওই তালিকা ঝুলবে। তালিকায় থাকা যোগ্য কিংবা অযোগ্য নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে।
Advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আবাস ভেরিফিকেশন চলাকালীন মোট এক লক্ষ ৭৭হাজার ৯০৩টি পরিবার ভিজিট করেছেন সরকারি অফিসার ও কর্মীরা। তারমধ্যে আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে তালিকায় নাম উঠে এসেছে এক লক্ষ ৪১হাজার ৭১জনের। প্রশাসনের ভেরিফিকেশনে বাড়ি পাওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় বাদ পড়েছে ৩৬হাজার ৮৩২জনের নাম। আবাস তালিকায় নাম থাকা এই জেলায় গড়ে ২১শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। তবে শতাংশের নিরিখে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে সুতাহাটায়। সেখানে ৪৩শতাংশ, হলদিয়ায় ৪০শতাংশ এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে ৩৮শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। প্রত্যেক বিডিও অফিস এবং পঞ্চায়েতের আবাস উপভোক্তা হিসেবে বৈধ এবং উপযুক্ত নয়, এরকম আলাদা তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, তমলুক ব্লকে বৈধ আবাস উপভোক্তা হিসেবে ৪২০২জনের নাম রয়েছে। বাদ পড়েছে ১৬৪৭টি নাম। একইভাবে পাঁশকুড়ায় উপভোক্তা হিসেবে নাম রয়েছে ৭৩৭৫জনের। নাম বাদ পড়েছে ২২৩৩জনের। কোলাঘাট ব্লকে আবাস উপভোক্তা হিসেবে নাম রয়েছে ৪৪৭৯জনের। বাদ পড়েছে ১৫০৯জনের। বাড়ি বাড়ি সার্ভে চলাকালীন ৩৭৫জন আবাস উপভোক্তা ভূমিহীন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও অতিবৃষ্টিতে ১৯১৯জনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বলেও তথ্য সামনে এসেছে।অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবাস তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশন শুরু হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিও অফিসের কর্মীরা ওই কাজে যুক্ত হন। তারপর জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিডিওরা সুপার চেকিং শুরু করেন। সুপার চেকিং চলাকালীন দেখা যায়, অনেক পাকাবাড়ির মালিকের নাম আবাস তালিকায় রয়েছে। আবাসের টাকা পেতে বেশকিছু জায়গায় নানা ছলচাতুরিও সামনে আসে। বসবাসের জন্য পাকা বাড়ি থাকায় কেউ গোয়ালঘর, আবার কেউ রান্নাঘরে কয়েকদিনের জন্য পৃথক সংসার পেতে বসেন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী তমলুক, কোলাঘাট সহ বেশকিছু ব্লকে আবাসে সুপার চেকিংয়ে যান। তিনি কোলাঘাট ব্লকে পুলসিটা পঞ্চায়েতে কুমারহাট, তমলুক ব্লকে উত্তর সোনামুই পঞ্চায়েতে গণপতিনগর গ্রামে পাকা বাড়ির মালিকদের নাম আবাস তালিকা থেকে কাটেন।
২০১৮সালে অক্টোবর মাসে বাড়ি বাড়ি সার্ভের ভিত্তিতে আবাস প্লাস তালিকা তৈরি হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সেই তালিকায় এক লক্ষ ৫২হাজার জনের নাম ছিল। এছাড়াও ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে অনেকে আবাস যোজনায় উপযুক্ত বলে দাবি করেছিলেন। সেইসব নামের তালিকা প্রত্যেক বিডিও অফিসে পাঠানো হয়। সেই তালিকা ধরেও বাড়ি বাড়ি সার্ভে হয়। এভাবে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ১লক্ষ ৭৭হাজার ৯০৩জনের বাড়িতে গিয়েছিলেন সরকারি কর্মীরা। সমীক্ষা শেষে আবাসে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশিত হল।
  
 
   
 
সম্পর্কিত সংবাদ