Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসে উপভোক্তাদের বাড়ি নির্মাণের উপর নজরদারি চালাবে জেলা প্রশাসনের অ্যাপ

আবাসে উপভোক্তাদের বাড়ি নির্মাণের উপর নজরদারি চালাবে জেলা প্রশাসনের অ্যাপ
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস প্রকল্পে উপভোক্তারা সময়মতো বাড়ি বানাচ্ছেন কিনা নজরদারি রাখতে অ্যাপস বানাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পরও কেউ বাড়ি বানানোর কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন কিনা সেটা অ্যাপসের মাধ্যমে জানা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মী সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার বাড়িতে হাজির হয়ে যাবেন। গত ২৬ডিসেম্বর ২৫টি ব্লকেই আবাস উপভোক্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছে ব্লক প্রশাসন। সেখানে টাকা পাওয়ার পর কী কী করণীয়, সেব্যাপারে উপভোক্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নজরদারি বাড়িয়ে ওই প্রকল্পের কাজে গতি আনা‌ই লক্ষ্য প্রশাসনের। 
Advertisement
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির কাজে নজরদারির লক্ষ্যে অ্যাপস তৈরি করা হবে। প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পর উপভোক্তাদের কী করতে হবে এনিয়ে প্রত্যেককে গাইড করা হয়েছে। ইট, বালির দাম যাতে আচমকা না বেড়ে যায় সেবিষয়ে নজরদারি থাকছে। আবাস যোজনায় পূর্ব মেদিনীপুরে অতীত অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। এর আগে আবাস যোজনার টাকা ঢোকার পরও কয়েকশো উপভোক্তা বাড়ি বানাননি। তাঁদের বাড়িতে লাল নোটিস পাঠানোর পর থানায় এফআইআর হয়েছে। তমলুক, পাঁশকুড়া, কাঁথি-১, ভগবানপুর-১ ও ২ সহ বিভিন্ন ব্লকে বিডিওরা এর আগে ওইসব উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন। প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ায় বেশকিছু উপভোক্তা সরকারি অ্যাকাউন্টে টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে, টাকা না ফেরানোর সংখ্যাটা বেশি। এভাবে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় হয়েছে। এবার রাজ্য সরকার গরিবদের পাকাবাড়ি তৈরির জন্য আবাসের টাকা দিয়েছে। ওই টাকা যাতে অতীতের মতো অপচয় না হয় সেজন্য তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৫৫হাজার ৪৪৬জন আবাস উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৩৩২কোটি ৬৭লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। ভগবানপুর-১ ও ২ব্লকে যথাক্রমে ৩০৫৬ ও ২৫৮৮জন, চণ্ডীপুরে ১৬৯৩জন, কাঁথি-১ব্লকে ১৭৮৩জন, নন্দীগ্রাম-১ব্লকে ২৩৭৯জন, নন্দকুমারে ১৭২৫জন, খেজুরি-২ ব্লকে ৩০২৭জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। সকলের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে। এবার প্রতিটি পঞ্চায়েতকে উপভোক্তা লিস্ট ধরানো হয়েছে। পঞ্চায়েতভিত্তিক টিম নজরদারি চালাবে। কিছু জায়গায় তথ্য‌ গোপন করে আবাস তালিকায় নাম তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাকাবাড়ি থাকার পরও নন্দীগ্রাম-২ব্লকে আমদাবাদ-১পঞ্চায়েতে আটজন তথ্য গোপন করেছেন। তাঁদের বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিডিও নির্দেশ দিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছে টিআর-৭ ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসন আবাস নিয়ে অত্যন্ত কড়া।  জানা গিয়েছে, প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে তিন থেকে চারজন করে সার্ভেয়ার নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির স্ট্যাটাস তুলে আনবেন। মোবাইল অ্যাপসে ৫৫হাজার বাড়ি তৈরির পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকবে।
সম্পর্কিত সংবাদ