Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসে তথ্য গোপন ১৪ জনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

আবাসে তথ্য গোপন ১৪ জনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: এ যেন কেঁচো খুড়তে কেউটে! আবাস যোজনায় অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর অভিযোগের পাহাড় জমছে নন্দীগ্রাম-২বিডিও অফিসে। অভিযোগ, পাকাবাড়ি গোপন রেখে আবাসের টাকা হাতানো হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তে করতে গিয়ে চমকে যাচ্ছে প্রশাসনও। অনেকেই পাকাবাড়ির কথা বেমালুম গোপন করে অন্যের কাঁচাবাড়ি কিংবা নিজের একটা কাঁচাবাড়ি দেখিয়ে আবাস তালিকায় নাম চূড়ান্ত করেছেন। যদিও তাঁদের নামে পাকাবাড়ি রয়েছে। তালিকায় সক্রিয় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরাই বেশি। বুধবার পর্যন্ত নন্দীগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসন মোট ১৪জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে যাওয়া ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিডিও সুপ্রতিম আচার্য।
Advertisement
বিজেপি পরিচালিত বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট চারজন উপভোক্তা পাকাবাড়ি থাকার কথা গোপন রেখে তালিকায় নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ। এজন্য ওই পঞ্চায়েতের হানুভুঁইয়া বুথের পুষ্পা ভুঁইয়া ও শম্ভুচরণ জানা, বিরুলিয়া গ্রামের হরিপদ দলপতি এবং ঘোলপুকুরিয়ার গোবর্ধন মণ্ডলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ওই চারজনের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার ৬০হাজার টাকা করে ঢুকেছে। অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে অভিযোগ জমা পড়ে। বিডিও অফিসের কর্মীরা তদন্তে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁরা পাকাবাড়ি থাকার কথা গোপন করেছিলেন। তাই প্রত্যেককে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিডিও নির্দেশ দিয়েছেন।
একইভাবে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত খোদামবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের ভেটুরিয়া গ্রামের রিজিয়া বিবি ও শেখ আসেদ, বিজেপি পরিচালিত খোদামবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রামের অশোক মাইতি ও গৌতম মণ্ডলের পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও পরিদর্শনের সময় মিথ্যা কথা বলেছিলেন। যেকারণে আবাস তালিকায় তাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়। তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকাও ঢুকে যায়। উপভোক্তা তালিকা প্রকাশ্যে আস঩তেই তাঁদের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে অভিযোগ জমা পড়ে। বিডিও অফিসের কর্মীরা সেইসব বাড়ি পরিদর্শন করার সময় দেখেন, পাকাবাড়িতেই বসবাস। তারপরও আবাসের টাকা পেয়েছেন। তাই এখন টাকা ফেরা঩তেই হবে। তা না হলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা থাকবে।
বিজেপি পরিচালিত আমদাবাদ-২ পঞ্চায়েতের কমলপুর গ্রামের সুব্রত মাইতি ও মহাদেব খাটুয়া একইভাবে পাকাবাড়ির মালিক হওয়ার পরও আবাসের টাকা পেয়েছেন। দু’জনকেই টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ব্লক প্রশাসন। অ্যাকাউন্টও বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদাবাদ-১ পঞ্চায়েতের আমদাবাদ গ্রামের শুভেন্দুশেখর পাত্র, হিমাংশু দাস, সুবদি গ্রামের নবকুমার দাস প্রমুখ পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে আবাস যোজনায় ৬০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। তাঁদের দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নন্দীগ্রাম-২ বিডিও।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে মোট ১৮৩০জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার ১০ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, আবাসের টাকা দেওয়ার পরই বিভিন্ন জায়গা থেকে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। ব্লক প্রশাসন টিম গঠন করে সেইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তাতেই আসল তথ্য সামনে আসে। তালিকা তৈরির সময় তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে জানতে পারছেন সরকারি কর্মীরা। এরপরই ওইসব উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে টাকা ফেরানোর নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
গত ৬ জানুয়ারি হানুভুঁইয়া এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য চন্দন সাহু বিজেপির হাতে আক্রান্ত হন। পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে আবাসের টাকা নেওয়ায় বিডিও অফিসে অভিযোগ করার কাজে চন্দনবাবুর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। এনিয়ে থানায় এফআইআর করেছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। বিডিও বলেন, আমরা মোট ১৪জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছি। তাঁরা পরিদর্শনের মিথ্যা কথা বলেছিলেন। প্রত্যেককে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ