সংবাদদাতা, চাঁচল: বঞ্চনা করেছিল কেন্দ্র সরকার। সেই বঞ্চনার কারণে রাজ্যের একাধিক উপভোক্তা বঞ্চিত ছিল আবাস প্রকল্প থেকে। তারপরেই মানবিক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যের টাকায় ঘর দেওয়া হবে গরীব মানুষদের। সেইভাবে সমীক্ষার জন্য তিনি নির্দেন দেন প্রশাসনকে। প্রথম ধাপে ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে ইতিমধ্যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেই টাকাতেও এবার থাবা বসানো হচ্ছে। এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মালদহের চাঁচল-১ ব্লকের ভগবানপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানে খদিয়ারপুর বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাটমানি তোলার অভিযোগ উঠেছে পানপাড়া বুথের তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর বিরুদ্ধে। সদস্যের স্বামী হারুন আলি সকাল সন্ধ্যা উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে কাটমানির জন্য চাপ দিচ্ছেন। কাটমানি দিতে রাজি না হলে শাসানিও দেওয়া হচ্ছে বলে উপভোক্তাদের অভিযোগ। এনিয়ে চাঁচল-১ ব্লক প্রশাসনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন উপভোক্তারা। চাঁচল-১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও শ্যামল দাস বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন পদক্ষেপ করবে।
Advertisement
কাটমানির শিকার খদিয়ারপুরের এক উপভোক্তা বীরেন দাস বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী হারুন আলিকে ২০ হাজার টাকা না দিলে নাকি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে না। তিনি আমাকে ভয় দেখিয়ে আট হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নিয়েছেন। আরও বাকি টাকা চাইছেন। এভাবে তাঁকে টাকা দিলে অগ্নিমূল্যের বাজারে ঘর নির্মাণ করব কী করে? আরেক উপভোক্তা ঘিনু দাস বলেন, প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে আনন্দে ছিলাম। কিন্তু হারুন যেভাবে ২০ হাজার টাকা কাটমানির চাপ দিচ্ছেন তাতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে না বলে তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন। কাটমানি না দিলে গ্রামছাড়া করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন। এনিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী তথা দলের নেতা হারুন আলি। তিনি বলেন, আমার আত্মীয়ের ইটভাটা রয়েছে। ঘর নির্মাণের জন্য কিছু মানুষ ইট কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। কাটমানি নেওয়া হয়নি। তূণমূল পরিচালিত ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জেড রহমান বলেন, কেউ যাতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অনিয়ম না করে, এনিয়ে পঞ্চায়েতে আলোচনা করা হয়েছিল। কেউ কাটমানি আদায় করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।



