Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাস পাচ্ছে গরিবরা, তিন পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে দু’হাজার বিরোধী তৃণমূলে

আবাস পাচ্ছে গরিবরা, তিন পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে দু’হাজার বিরোধী তৃণমূলে
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, চাঁচল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের সাফল্য বিশ্ববন্দিত। একেবারে নিচুস্তুরের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত একাধিক প্রকল্প বারবার কেন্দ্রের পুরস্কার ছিনিয়ে এনে সেকথা প্রমাণ করেছে। তার থেকে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে আমজনতার স্বস্তি ফিরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীরা যতই দানখয়রাতি, দয়ার দান বলে বিরোধিতা করুক, মানুষ সেকথা মনে করছে না। উল্টে প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ভবিষ্যত্ আরও সুরক্ষিত করার দিকে ঝুঁকছে জনতা।  
Advertisement
রবিবার রাতে চাঁচলে তাঁর একটা ঝলক দেখা গিয়েছে। কেন্দ্র আবাসের টাকা বন্ধ করার পর রাজ্য নিজেদের কোষাগার থেকে গরিবদের বাড়ি করে দিচ্ছে। সেই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এমাসেই টাকা ঢোকার কথা। তার আগে তালিকায় গরিবদের নাম রয়েছে দেখেই মালতীপুর বিধানসভার ধানগারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বালুয়াঘাটে কংগ্রেস, সিপিএম জোটের তিন পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে দু’হাজার বিরোধী কর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে। এই পর্বে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি।যোগদানকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষ আবাসের ঘর থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। অথচ বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের হকের টাকা আটকে রাখছে কেন্দ্র। বাম, কংগ্রেস এনিয়ে আন্দোলন করার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের হাত শক্ত করতে যোগ দিয়েছেন। 
এই কর্মসূচির পর অনেকটা আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে রহিমকে। গত লোকসভা নির্বাচনে মালতীপুর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। তাই এই যোগদান তৃণমূল নেতৃত্বকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসা পঞ্চায়েত সদস্য আফজল হোসেন ও রাফিকুল ইসলাম একযোগে বললেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় এলাকার অনেক গরিব মানুষের নাম রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানুষের জন্য ভাবছেন। তাই কর্মীদের নিয়ে তৃণমূলে যোগদান করলাম। ধানগারা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মোহাম্মদ সাদিকুজ্জামানের কথায়, ২৩ টি আসনের মধ্যে আমরা ৯ টি পেলেও পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছিলাম। এখন আমাদের সদস্য হল ১৬ জন। এদিন মঞ্চে বিধায়ককে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই দেখা গিয়েছে। অবশ্য তাঁর বেফাঁস মন্তব্যের জন্য কিছুটা হলেও তাল কেটে যায় সভার। কেন্দ্রের বঞ্চনা প্রসঙ্গে বক্সি বলেন, বিরোধীদের আখের মতো মেশিনে পিষে রস বের করে গুড় বানিয়ে পিঁপড়েকে খাওয়াবে  মানুষ। 
যদিও বিতর্ক তৈরি হতেই রহিম সাফাই দিয়ে বলেন, মানুষ বিধানসভা ভোটে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধীদের এই অবস্থা করবে। জনগণের মেজাজ দেখে সেটাই বলতে চেয়েছি।
এপ্রসঙ্গে উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুবমোর্চার সভাপতি অয়ন রায়ের অভিযোগ, বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরে বেফাঁস মন্তব্য করে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত করতে চাইছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ