নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প থেকে ‘কমিশন’ আদায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। তার জেরে পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে আরামবাগের সাতমাসা এলাকার ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। মারধরের জেরে জখম হয়ে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরাণ্ডি-১ পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী শেখ আব্বাসউদ্দিন। রাতেই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
আব্বাসউদ্দিনের অভিযোগ, ওইদিন সন্ধ্যায় সাতমাসার কাছে শিমুলতলায় নিজের মুরগির দোকানে ছিলেন। সেইসময় প্রায় ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী আচমকা এসে তাঁর উপর হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে দক্ষিণ নারায়ণপুরের ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
জানা গিয়েছে, আরাণ্ডি-১ পঞ্চায়েতের সাতমাসা গ্রাম থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সদস্যা হন জাহানারা বেগম। যদিও তৃণমূলেই রয়েছেন বলে দাবি করেন জাহানার। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাকা ঘর তৈরি করার জন্য ৬০ হাজার টাকা করে প্রথম কিস্তি পাঠিয়েছেন। সেই টাকা থেকে কমিশন আদায় করছে গ্রামেরই কয়েকজন তোলাবাজ। উপভোক্তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকের থাকে কমিশন আদায়ও করেছে। উপভোক্তারা সেই খবর আমাকে জানালে স্বামী তার প্রতিবাদ করেন। স্বামী উপভোক্তাদের বোঝান কাউকে কমিশন না দিতে। তার জেরেই স্বামীর উপর হামলা চালানো হয়। ওই রাতে স্বামীকে মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে। কিন্তু, এখনও রিপোর্ট আসেনি। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের নির্দেশ থাকতে পারে। তবে এলাকার মানুষ আমার পাশে রয়েছে। তারা সবই বুঝতে পারছে।
জাহানারা বেগম আরও বলেন, বাড়িতে চার ছেলে মেয়ে রয়েছে। এই রকম ঘটনার পর আমরা আতঙ্কে রয়েছি। ছেলে মেয়েদের বাপেরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারসঙ্গে আরামবাগ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তরা নামেই তৃণমূল। কিন্তু, আদতে তারা তোলাবাজি, হুমকি দিয়ে বেড়ায়। পুলিস যদি আইনত কোনও ব্যবস্থা নেয় ভালো হয়।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, সরকারি যে কোনও প্রকল্পের টাকা এলেই তৃণমূলের লোকজন সেখান থেকে কমিশন আদায় করে। এটাই ওদের সংস্কৃতি। আবাসের টাকা ঢোকার পর থেকেও তোলাবাজদের হাত থেকে রেহাই পাননি উপভোক্তারা। কমিশন নেওয়ার প্রতিবাদ করায় মার খেয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। জানা গিয়েছে, আরাণ্ডি-১ পঞ্চায়েতের সাতমাসা গ্রাম থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সদস্যা হন জাহানারা বেগম। যদিও তৃণমূলেই রয়েছেন বলে দাবি করেন জাহানার। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাকা ঘর তৈরি করার জন্য ৬০ হাজার টাকা করে প্রথম কিস্তি পাঠিয়েছেন। সেই টাকা থেকে কমিশন আদায় করছে গ্রামেরই কয়েকজন তোলাবাজ। উপভোক্তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকের থাকে কমিশন আদায়ও করেছে। উপভোক্তারা সেই খবর আমাকে জানালে স্বামী তার প্রতিবাদ করেন। স্বামী উপভোক্তাদের বোঝান কাউকে কমিশন না দিতে। তার জেরেই স্বামীর উপর হামলা চালানো হয়। ওই রাতে স্বামীকে মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে। কিন্তু, এখনও রিপোর্ট আসেনি। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের নির্দেশ থাকতে পারে। তবে এলাকার মানুষ আমার পাশে রয়েছে। তারা সবই বুঝতে পারছে।
জাহানারা বেগম আরও বলেন, বাড়িতে চার ছেলে মেয়ে রয়েছে। এই রকম ঘটনার পর আমরা আতঙ্কে রয়েছি। ছেলে মেয়েদের বাপেরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারসঙ্গে আরামবাগ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তরা নামেই তৃণমূল। কিন্তু, আদতে তারা তোলাবাজি, হুমকি দিয়ে বেড়ায়। পুলিস যদি আইনত কোনও ব্যবস্থা নেয় ভালো হয়।
তৃণমূলের আরামবাগ ব্লক সভাপতি শম্ভুনাথ বেরা বলেন, আরাণ্ডির ঘটনা অনভিপ্রেত। দল এই ধরনের ঘটনা সমর্থন করে না। যা শুনেছি অভিযুক্তরা দলের সমর্থক বলে নিজেদের প্রচার করেছে। তারা কোনও দলীয় পদে নেই। আমরা প্রশাসনকে বলেছি সব দিক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে। তবে বিজেপির এই ঘটনায় কথা বলা মানায় না। তারা আগে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।



