সংবাদদাতা, চাঁচল: নীল রঙে রাঙা মাটির বাড়ি গ্রামজুড়ে। চাঁচল-২ ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত সেই পাথরঘাটা গ্রামে প্রায় ৫০ জন প্রকৃত প্রাপক আবাস যোজনায় বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করলেন। পাকা বাড়ির দাবিতে মঙ্গলবার গ্রামের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কেন তালিকায় নাম নেই সেকথা জানতে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে গেলে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরোধী দলের বলে অ্যাখা দিলেন। তাঁর মন্তব্যের পর শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় আবাস যোজনার টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সমীক্ষার কাজ হওয়ার পর ডিসেম্বরের শেষের দিকে উপভোক্তাদের টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা। তারমধ্যেই আবাস যোজনা নিয়ে জট পাকল পাথরঘাটায়। ৫০ টি পরিবার মাটির বাড়িতেই দিন গুজরান করে। তাঁদের বেশিরভাগই মজুর এবং পরিযায়ী শ্রমিক। বিক্ষোভকারীদের দাবি, একাধিকবার আবেদন করলেও আবাস যোজনা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি তাঁদের নাম। এর জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারী শনিরাম হেমব্রম বলেন, টালির ছাউনি দেওয়া মাটির দুটি ঘরে তিন মেয়ে সহ স্বামী, স্ত্রী থাকি। টাকার অভাবে নড়বড়ে ছাউনি মেরামত করা হয়নি। আবেদন করেও আবাসের তালিকায় নাম ওঠেনি আমাদের। গোপীনাথ হাঁসদার অভিযোগ, গ্রামের ৫০ জন প্রকৃত প্রাপক আবাস থেকে বঞ্চিত। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সেদিকে গুরুত্ব দেন না। পঞ্চায়েত সদস্য কৃষ্ণ চন্দ্র ওঁরাও এপ্রসঙ্গে বলেছেন, গ্রামের অনেকের কাঁচাবাড়ি রয়েছে। তাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে। বিরোধীরাই এদিন বিক্ষোভ দেখিয়েছে। চাঁচল ২ এর বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ৫০৩২ জন উপভোক্তা রয়েছেন। সমীক্ষা শেষ হয়েছে। যাঁরা প্রকৃত প্রাপক অথচ নাম নেই, তাঁরা আবেদন করতে পারেন।



