নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়খণ্ড সীমানায় ফের বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জঙ্গলমহলে। ঝাড়গ্রাম জেলার শিক্ষাদপ্তর ও বনবিভাগের তরফে এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
রবিবার এসডিও অফিসের সিধো-কানহো হলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বৈঠক হবে। বৈঠক জেলাশাসক, এসপি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সিএমওএইচ ছাড়াও বন বিভাগের আধিকারিকরা থাকবেন। বৈঠকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। গত বছর থেকে হাতির আক্রমণে এই জেলায় একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। হাতির পাল গ্ৰামে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। গত ডিসেম্বরে বেলপাহাড়ীর কাঁকড়াঝোর জঙ্গলে বাঘিনী জিনাতের দেখা পাওয়া গিয়েছিল। যা নিয়ে বেলপাহাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার পড়ুয়ারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন সীমানায় ফের বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ায় আতঙ্ক ফিরে এসেছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তরফে অবশ্য অযথা আতঙ্কিত না হতে বলা হচ্ছে। এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে বনবিভাগ কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। হাতির করিডর ও জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বনবিভাগের অতিরিক্ত কর্মী রাখা হবে। রেঞ্জ অফিসাররা স্থানীয় গ্ৰামবাসী ও স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে। জেলা শিক্ষাদপ্তর ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে নিরাপদ পথের রুট ম্যাপ তৈরির জন্য বলেছেন। জেলা পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখার কথা জানাচ্ছেন। ডিআই শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় এদিন বলেন, ঝাড়গ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গলময়। পরীক্ষার্থীরা জঙ্গলের পথ দিয়েই পরীক্ষা দিতে আসবে। তাদের নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি নিয়ে আগাম জানানো হয়েছে। আগামীকালের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হবে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, প্রতিবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে হাতির করিডর ও জঙ্গল এলাকার পরীক্ষা কেন্দ্রে বনবিভাগের বাড়তি নজরদারি থাকবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও গ্ৰামবাসীদের সঙ্গেও আমরা কথা বলব। সতর্কতামূলক সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন সাহু বলেন, এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন। আগামীকালের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করব। বেলপাহাড়ী গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আত্রেয়ী চক্রবর্তী বলেন, বাঘ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা নিশ্চিত মনে পরীক্ষা দিক। তার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক। প্রয়োজন হলে স্কুলের তরফে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।



