Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কিডনিদাতার সংখ্যা! ধন্দে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

যদিও কিডনি দান ও প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়াই সরকারি নিয়ম মেনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা

অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কিডনিদাতার সংখ্যা! ধন্দে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া, চেঙ্গাইল, উলুবেড়িয়া-১, শ্যামপুর-১ ও বাউড়িয়া। গত তিন মাসে গ্রামীণ হাওড়ার এই চারটি ব্লক থেকে ২৫ জন তাঁদের একটি করে কিডনি দান করার আবেদন জানিয়েছেন। ডোমজুড় ও সাঁকরাইল ব্লকেও কিডনি দাতার সংখ্যাটা চোখে পড়ার মতো। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কিডনি দানের একাধিক আবেদন আসছে। তাহলে কি কিডনির রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আচমকাই বেড়ে যাচ্ছে? দরকার হচ্ছে প্রতিস্থাপনের? নাকি অঙ্গদান নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এমন সাড়া? প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কোনো অসাধু কারবার চলছে না তো? এরকম নানা প্রশ্নে ধন্দে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও কিডনি দান ও প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়াই সরকারি নিয়ম মেনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা।

Advertisement

 
নিয়ম অনুযায়ী শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এসডিও অফিসের মাধ্যমে এবং গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বিডিও অফিসের মাধ্যমে কিডনি দানের আবেদন পৌঁছয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে। আবেদন খতিয়ে দেখার পর শুনানির দিনক্ষণ ঠিক হয়। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে হিয়ারিংয়ে উপস্থিত থাকেন সংশ্লিষ্ট বিএমওএইচ, বিডিও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। শহরাঞ্চলে সিএমওএইচ, এসডিও এবং এসডিপিওর উপস্থিতিতে শুনানি সম্পন্ন হয়। সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হয় কিডনি দাতা এবং গ্রহীতাকে। গোটা শুনানি প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। এরপর সমস্ত নথিপত্র সহ সেই ভিডিও রেকর্ডিং সিডি আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যভবনে। সেখানে হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। দাতা ও গ্রহীতার পূর্ণ সম্মতি সহ সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখা হয়। তারপরই কিডনি দানের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। সাধারণত এক মাসের মধ্যে শেষ হয় গোটা প্রক্রিয়া। হাওড়া সহ গোটা রাজ্যেই এই নিয়ম। 


কিন্তু গ্রামীণ হাওড়ার নির্দিষ্ট পাঁচ-ছ’টি ব্লক থেকে সম্প্রতি এত জনের কিডনি দানের আবেদন অস্বাভাবিক নয় কি? স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, কিছুটা অস্বাভাবিক তো বটেই। তবে তাদের দাবি, এক্ষেত্রে কোনো অসাধু কারবারের আভাস এখনও তাদের নজরে আসেনি। কিডনি দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে, এরকম কোনো ঘটনা সামনে আসেনি এখনও। ফলে কিডনি বিক্রি বা পাচারের মতো অভিযোগ নেই কোথাও। তবে একাধিক স্বাস্থ্যকর্তা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মেনে নিচ্ছেন, এমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়! হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘স্বাস্থ্য দপ্তরের সমস্ত নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নজরদারিতে কিডনি দানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।’ আবেদন বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একদিকে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। পাশাপাশি, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বাড়ছে কিডনি সংক্রান্ত নানা সমস্যা। অনেকের ক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়ছে। আত্মীয় বা প্রিয়জনদের প্রাণ বাঁচাতে কিডনি দানে সম্মতও হচ্ছেন অনেকে।’ এক স্বাস্থ্যকর্তা জানান, জেলার মোট ৫৯১টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ হিসেবে এখন প্রতি সপ্তাহে ডায়াবেটিস ও কিডনি সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ নিয়ে সচেতনতা শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে কিডনি দান ও প্রতিস্থাপন নিয়ে মানুষের ভয়ভীতি- উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমেছে। সেই কারণেই কিডনি দাতার সংখ্যায় এই ‘আপাত অস্বাভাবিকতা’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ