Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবহাওয়া অনুকূল, এবার আলুর ব্যাপক ফলনের প্রত্যাশায় কৃষিদপ্তর

আবহাওয়া অনুকূল, এবার আলুর ব্যাপক ফলনের প্রত্যাশায় কৃষিদপ্তর
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আবহাওয়া অনুকূল। তাই এবার আলুর বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা উত্তরবঙ্গে। কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি থেকে কোচবিহার সর্বত্র খেত পরিদর্শনের পর এমন আশা করছে কৃষিদপ্তর। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রের খবর, এবার সংশ্লিষ্ট চার জেলায় আলু চাষের জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৪২০ হেক্টর। তাতে ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনের উপরে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের আলু মজুতের জন্য হিমঘরে সংরক্ষণের জায়গায় ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে কৃষি বিপণন দপ্তর এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছে। 
কোচবিহার জেলার অর্থকারী ফসলগুলির মধ্যে আলু অন্যতম। এখানকার ১২টি ব্লকেই জ্যোতি, পোখরাজ, দেশি, হল্যান্ড সহ বিভিন্ন প্রজাতির আলু চাষ হয়। এখন জমি থেকে আলু তোলা শুরু হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, গতবছর জেলায় আলু চাষের জমি ছিল ৩৫ হাজার হেক্টর। উৎপাদন হয়েছিল ১২ লক্ষ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। এবার চাষের জমি বেড়ে ৩৮ হাজার হেক্টর। প্রাথমিকভাবে তাতে উৎপাদনের সম্ভাবনা ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। 
কোচবিহারের কৃষকদের একাংশের বক্তব্য, এবার শীত পড়লেও বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। কুয়াশা পড়লেও রোদ ছিল। ফলে আলু খেতে ধসা রোগ দেখা দেয়নি। জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) অসিত মণ্ডল বলেন, প্রতিটি ব্লকের আলু খেতের উপর নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন ভালো হবে বলেই আশা করছি। 
জলপাইগুড়ি জেলার ছবিটাও একইরকম। জলপাইগুড়ি সদর, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি ও রাজগঞ্জে মূলত আলু চাষ হয়। কৃষিদপ্তর সূত্রের খবর, গতবছর ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছিল ৯ লক্ষ মেট্রিক টন। এবার চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে। তাতে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। শিলিগুড়ির খড়িবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া ও নকশালবাড়িতে গতবছর ১১২০ হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার মেট্রিক টন। এবার সংশ্লিষ্ট জমিতে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৬ হাজার মেট্রিক টন। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, গতবছর আবহাওয়ার জেরে কিছু জায়গায় আলু চাষে ক্ষতি হয়েছিল। এবার এখনও পর্যন্ত চাষে কোনও ক্ষতি হয়নি। 
তবে আলিপুরদুয়ার জেলায় আলু চাষের জমি সামান্য কমেছে। জেলার আলিপুরদুয়ার-১ ও ২, কুমারগ্রাম ও ফালাকাটা এই চারটি ব্লকেই মূলত আলু চাষ হয়। কৃষিদপ্তর সূত্রের খবর, গতবছর জেলায় ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন হয়েছিল ৭ লক্ষ মেট্রিক টন। ভুট্টা চাষ বাড়ায় আলুর জমি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩০০ হেক্টর। তাতে গতবছরের মতো একইরকম উৎপাদন হবে বলেই মনে হচ্ছে। জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) নিখিলকুমার মণ্ডল বলেন, এবার জেলার আলু ফলন ভালো হবে বলেই আশা করছি। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে, আবহাওয়ার গতিবিধি দেখেই এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 
এদিকে, কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হিমঘরের সংখ্যা অসংখ্য। তাতে আলু মজুত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের যাতে সমস্যা না হয় সেব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। প্রশাসন সূত্রে খবর, গতবছর ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের আলু মজুত করার জন্য হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল ২০ শতাংশ জায়গা। তাতে চাষিরা ৫০ কেজির ৫০টি ব্যাগ মজুত করতে পারতেন। এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ শতাংশ জায়গা। তাতে ৭০টি করে ব্যাগ মজুত করতে পারবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ