Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোদে দাঁড়িয়ে জনতা, ব্যারিকেড খুলে মঞ্চের কাছে ডেকে নিলেন অভিষেক

রোদের তাপ যতই চড়েছে, ততই ঘন হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ভিড়

রোদে দাঁড়িয়ে জনতা, ব্যারিকেড খুলে মঞ্চের কাছে ডেকে নিলেন অভিষেক
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: রোদের তাপ যতই চড়েছে, ততই ঘন হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ভিড়। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর গুলাইচণ্ডীর মাঠ এদিন শুধু একটি জনসভার সাক্ষী থাকেনি, কার্যত মেলা বা উৎসবের চেহারা নিয়েছিল। তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেককে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে কার্যত। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদলের সমর্থনে সভা করতে এসে অভিষেকও প্রত্যক্ষ করলেন বসিরহাটের মাটিতে জোড়াফুলের সমর্থনে জনজোয়ারের এক বিরল দৃশ্য। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ভরতে শুরু করে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকেন। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও গলায় গামছা, কারও আবার মোবাইল ক্যামেরা প্রস্তুত। আকাশ থেকে হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা মাত্র উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সভাস্থল। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। সেই ভিড়ে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 

Advertisement

মঞ্চে উঠে অভিষেক প্রথমেই নজর দেন চড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মী-সমর্থকদের দিকে। সামনের ব্যারিকেড খুলে তাঁদের মঞ্চের কাছে আসতে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন তিনি। এই ঘটনাতেই বদলে যায় সভার আবহ। ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি বাড়লেও আবেগের স্রোত আরও তীব্র হয়। ভাষণে অভিষেক একদিকে যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন, অন্যদিকে বসিরহাটের উন্নয়ন ও আগামী দিনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘এই ভিড়, এই উন্মাদনা বলে দিচ্ছে বসিরহাট দক্ষিণে সুরজিৎ মিত্রের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাঁর বক্তৃতা চলাকালীন ‘আবার জিতবে বাংলা’, ‘জয় বাংলা’ ইত্যাদি স্লোগানে বারবার মুখরিত হয় সভাস্থল। তীব্র গরম উপেক্ষা করে এত মানুষের ছুটে আসাটাই বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়েছে বলে জানিয়ে দেন অভিষেক। শুধু সভাস্থল নয়, তার আশপাশেও বহু মানুষের ভিড় জমে যায়। তাঁরা চেষ্টা করেও ভিড়ে ঠাসা সভাস্থলে ঢুকতে পারেননি। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মাইকে বক্তৃতা শুনে স্লোগান তুলেই ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে। সভার শেষের দিকে জনতার উদ্দেশে প্রণাম জানান অভিষেক। পাশে দাঁড়িয়ে একইভাবে মাথা নত করেন প্রার্থী বাদল। কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, ‘এত পরিশ্রম, এত গরম—সব কিছুর পর এই সম্মানটাই আমাদের আরও উজ্জীবিত করে দিল।’ তৃণমূল কর্মী কালাম গাজী বলেন, ‘প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু উনি যখন নিজে আমাদের ডেকে নিলেন মঞ্চের কাছে, তখন যেন সব কষ্ট এক মুহূর্তে লাঘব হয়ে গেল। এতটা কাছ থেকে প্রিয় নেতাকে এই প্রথম দেখলাম।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ