নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: আগামী ৭ এপ্রিল জলপাইগুড়ি ও কুমারগ্রাম ব্লকের বারোবিশায় নির্বাচনি জনসভা করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি-১ অঞ্চলের সিপাইপাড়ায় সভায় ৫০ হাজার লোক সমাগমের টার্গেট নেওয়া হয়েছে বলে জানান জলপাইগুড়ি আসনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। শুক্রবার তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে রাজগঞ্জ বিধানসভার আমবাড়ি সুদামগঞ্জের মাঠে জনসভা করে গিয়েছেন সেনাপতি। ওই সভায় প্রতিটি অঞ্চল থেকে তিন হাজার লোক নিয়ে যাওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার চেয়েও অনেক বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিল। সিপাইপাড়ার মাঠে যাতে আরও বেশি ভিড় হয়, সেটাই আমাদের টার্গেট। প্রতিটি অঞ্চলে দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্তত ৫ হাজার করে লোক নিয়ে আসতে হবে। শহর থেকে ১০ হাজার লোক যাবে। অন্যদিকে, কুমারগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রাজীব তিরকির সমর্থনে একই দিনে জনসভা করবেন অভিষেক। সেখানে ৩০ হাজার লোক জমায়েতের টার্গেট নিয়েছে দল। বারোবিশার প্রস্তাবিত কলেজের মাঠে সভাটি হবে। শুক্রবার সভাস্থলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভা হয়। সেখানে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের আধিকারিকরা ছিলেন। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, আমরা ওই জনসভায় রেকর্ড জমায়েত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি।
এদিকে, জলপাইগুড়িতে এদিন বৈঠকের পর আইএনটিটিইউসি’র ৭৮ জনের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের ব্লক, অঞ্চল এবং ওয়ার্ড কমিটিগুলিকে পুরোদমে প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে ঝাঁপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন দে। সভায় অবশ্য ছিলেন না সংগঠনের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্র। গরহাজির ছিলেন আইএনটিটিইউসি’র ময়নাগুড়ি গ্রামীণ ব্লকের সভাপতিও। জেলা সভাপতির দাবি, ১৬ জন ব্লক সভাপতির মধ্যে দু’জন আসেননি। যদিও পুণ্যব্রত জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে জলপাইগুড়িতে না থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি।
জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি ঘোষিত হয়। কিন্তু ওই কমিটিতে তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের সই না থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। তপনের ঘোষিত কমিটিকে অবৈধ বলে দাবি করেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, তপনের ঘোষণা করা জেলা কমিটিতে পুণ্যব্রত মিত্রর নাম না থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁকে সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি বলে উল্লেখ করেছিলেন ঋতব্রত। এদিন অবশ্য তপন বলেন, জেলা সভানেত্রী ২৭ মার্চ সই করে দিয়েছেন। সেইমতো এদিন সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হল। পুণ্যব্রত আইএনটিটিইউসি’র জেলা সহ সভাপতি নন, তিনি টাউন ব্লকের সভাপতি হিসাবে জেলা কমিটিতে থাকলেন। যদিও এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি পুণ্যব্রত। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী বলেন, জেলায় দলের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আইএনটিটিইউসি সাংগঠনিকভাবে কাজ করবে। মিছিল-মিটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তাঁদের। আগে থেকেই দলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা কমিটি রয়েছে, সেটাই থাকছে।