Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেককে এবার টানা ছয় ঘণ্টা জেরা, অসন্তুষ্ট তদন্তকারীরা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬ ঘণ্টা জেরা করেছে সিআইডি। তদন্তকারীদের অসন্তোষ প্রকাশ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মন্তব্যের অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

অভিষেককে এবার টানা ছয় ঘণ্টা জেরা, অসন্তুষ্ট তদন্তকারীরা
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৪ মে-র পর এমন ডিজে বাজবে যে কান ঝালাপালা হয়ে যাবে! এবার ভোটের প্রচার পর্বে এমনই মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ ঘোষণা ছিল, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত দয়ালু নই! তৃণমূল কংগ্রেস সেনাপতি তথা এমপির এই বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় মঙ্গলবার সিআইডি 

Advertisement

তাঁকে জেরা করল টানা ৬ ঘণ্টা। সিআইডি সূত্রের দাবি, জেরায় একাধিক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন অভিষেক। এতে অসন্তুষ্ট তদন্তকারী এজেন্সি তাঁর বয়ান যাচাই করে দেখছে, প্রয়োজনে ফের তাঁকে তলবও করা হতে পারে। 
পালাবদলের পর, গতমাসে বাগুইআটির বাসিন্দা এক ব্যক্তি এই ব্যাপারে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার 
ক্রাইম থানা উসকানিমূলক মন্তব্য, হিংসা ছড়ানো, ভয় দেখানো প্রভৃতি ধারায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কেস রুজু করে। গতসপ্তাহে তদন্তভার নেয় সিআইডি এবং মঙ্গলবার তাঁকে জেরার জন্য ভবানী ভবনে তলব করে। কনফারেন্স রুমে প্রথমেই তাঁর ওই আপত্তিকর ভাষণের অডিয়ো শোনানো হয়। তারপর জানতে চাওয়া হয়, এমন মন্তব্য কেন করলেন? জবাবে অভিষেক দাবি করেন, এই মন্তব্য উসকানিমূলক নয়। হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্যও তাঁর ছিল না। কাউকে ভয় দেখাননি তিনি। 
বিজয়ের পর ডিজে বাজিয়ে 
সকলে আনন্দ করে। বিজয়োৎসব কীভাবে হবে, সেটাই জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। 
যদিও তাঁর এই বক্তব্য সন্তুষ্ট করতে পারেনি সিআই঩ডিকে। সূত্রের খবর, বিষয়টি এজেন্সি হালকাভাবে নিচ্ছে না। তারা মনে করছে, এমপির এই মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল—উসকানি ছড়ানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি। তাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিও হতে পারত। জেরায় অভিষেক নিজের বক্তব্য থেকে সরে গিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য তদন্তকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাঁর বয়ান রেকর্ডের সঙ্গে ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়। অভিষেক ভবানী ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান সন্ধ্যা ৬টার পর।এদিকে, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে সিআইডির মূল ভরসা বিধানসভায় জমা পড়া নথি। রেজোলিউশন না-হওয়ায় তৃণমূলের জমা দেওয়া ওই নথিতে যে চার বিধায়কের নাম রয়েছে, তার সঙ্গে সংগৃহীত নমুনা মিলিয়ে দেখবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তবে ওই সই যে ‘জাল’, পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ এবং চার বিধায়কের বয়ানের ভিত্তিতে সিআইডি একপ্রকার নিশ্চিত। ওইদিন জয়ী বিধায়কদের একটি বড়ো অংশের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতপার্থক্য তৈরি হয়। এমনকি চার বিধায়ক অনুপস্থিত কেন, এনিয়ে ওই বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ