নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনপুর: গত বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলার চার আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এবার তিন আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করলেও জয় ধরে রাখতে হবে। কোন ফর্মুলায় এই জয় আসবে, সেটাই দলের জেলা নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের জানিয়ে গেলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জঙ্গলমহলের অন্যতম জেলা ঝাড়গ্রাম। এই জেলায় চারটি বিধানসভা আসন—নয়াগ্রাম, গোপিবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম ও বিনপুর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চারটি আসনেই তৃণমূল জয়ী হয়। নয়াগ্রামে জিতেছিলেন দুলাল মুর্মু, গোপিবল্লভপুরে খগেন্দ্রনাথ মাহাত, ঝাড়গ্রামে বিরবাহা হাঁসদা, বিনপুরে দেবনাথ হাঁসদা। এবার নয়াগ্রামে দুলাল মুর্মুকে রেখে দেওয়া হলেও বাকি তিন আসনে জোড়াফুলের প্রার্থী বদল হয়েছে। বিরবাহা হাঁসদাকে ঝাড়গ্রাম থেকে বিনপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেবনাথ হাঁসদা ও খগেন্দ্রনাথ মাহাতকে টিকিট দেওয়া হয়নি। ঝাড়গ্রামে এবার প্রার্থী করা হয়েছে মঙ্গল সোরেনকে। আর গোপিবল্লভপুরে প্রার্থী অজিত মাহাত।
প্রার্থী ঘোষণার পর শুক্রবারই প্রথম এই জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষ হওয়ার পর মঞ্চেই প্রার্থী ও নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সেরে নেন। জানা গিয়েছে, অভিষেকের নির্দেশ দিয়েছেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো মন কষাকষি, ক্ষোভ, দুঃখ রাখা চলবে না। প্রচারের কাজে সবাইকে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দলের জন্য যে কাজ করবে, দল তাঁকে মনে রাখবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। মূলত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এবার প্রার্থীদের ‘টিম’ সাজিয়েছে তৃণমূল। বিরবাহা হাঁসদার মতো মন্ত্রীর বিধানসভা আসন বদল শুধু নয়, জঙ্গলমহলের আর এক জেলা বাঁকুড়ার রানিবাঁধ আসনে এবার টিকিটই পাননি মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি।
তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, মন্ত্রী হোক বা বিধায়ক, কেউই দলের ঊর্ধ্বে নয়। মানুষের জন্য কাজ করাই জনপ্রতিনিধির একমাত্র লক্ষ্য। ঝাড়গ্রাম জেলায় যে চারজন তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে বিপুল ভোটে জেতানোর টার্গেট দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কর্মীদের। বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদাকে প্রচারে আরও বেশি করে সংযুক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক।