নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল: নিশ্চিন্তে আলু চাষ করতে বিজেপি সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মোদি সরকার জনবিরোধী। তাই এদের হারান। আপনার আলু চাষের খরচও কমবে। আর আলু সংরক্ষণ করারও সুযোগ পাবেন। আগামী দিনে রাজ্য সরকার আরও বেশি দামে আলু কিনবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু জিততে হবে। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে লড়তে হবে।
শুক্রবার বিকেলে খানাকুলের লাইব্রেরি ফুটবল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী পলাশ রায়ের সমর্থনে জনসভা করতে আসেন অভিষেক। সেখানে অন্য বিধানসভার প্রার্থীরাও ছিলেন। এছাড়া ছিলেন আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ সহ খানাকুলের দু’টি ব্লকের নেতারা।
সভা থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, এবছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অত্যাধিক আলুর ফলন হয়েছে। সাধারণত প্রতি বিঘা পিছু ৬৫ থেকে ৭০ বস্তা আলু হয়। এবার তা ১০০ থেকে ১২০ বস্তা আলু হয়েছে। গত বছর রাজ্যে আলু উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। এবছর আমার ধারণা তা অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু এখানে কিছু মিথ্যা প্রচার করে বলা হচ্ছে, কৃষকরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। কারণ পার্শ্ববর্তী যে রাজ্যগুলি রয়েছে সেখানে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি বলি, গত ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মাত্র তিনদিনে তারকেশ্বর স্টেশন থেকে চারটি রেকে প্রায় এক লক্ষ ৬৮ হাজার বস্তা আলু লোড করে ত্রিপুরা এবং অসমে পাঠানো হয়েছে। আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা নেই। তিনি বলেন, সারের দাম, নাইলনের বস্তার দাম বাড়িয়েছে বিজেপির সরকার। আমাদের সরকার ৯৫০ টাকায় এক কুইন্টাল আলু কিনছে। উত্তর প্রদেশে এক কুইন্টাল আলু বিক্রি হয় ৪৫০ টাকায়। পাঞ্জাবে বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়। জেনে রাখুন আলু চাষের ক্ষেত্রে আজকে সার, ইউরিয়ার দাম কে বাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। যে বস্তার দাম নয় টাকা দাম ছিল, আজকে তা ২৮ টাকা হয়েছে। আর বিহার, উত্তর প্রদেশ থেকে লোকেরা আসছে বস্তা বিক্রি করতে। দায় কার? জনবিরোধী মোদি সরকারের। অভিষেক তাঁর বক্তব্য শেষ করার মুহূর্তেও আলু চাষিদের আবেগ ছুঁয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, ২০২৬ এর সরকার গঠন হওয়ার পর বাংলায় প্রতি বছর নতুন করে আলাদা ভাবে কৃষক বাজেট পেশ করা হবে বিধানসভায়। আলু বা অন্যান্য ফসলের চাষের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, তাঁদের প্রত্যেকের উপকার, স্বার্থের কথা মাথায় রেখে রাজ্যজুড়ে ৫০টি হিমঘর করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ঘোষণা করেছে। সেখানে এই আরামবাগ মহকুমাতেও যদি বাড়তি এক-দুটো হিমঘরের দরকার পড়ে সরকারিভাবে জুন মাস থেকে সেই কাজ শুরু হবে। • নিজস্ব চিত্র