সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; রাজ্যে আপাতত কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে কেন্দ্রীয়স্তরে বাংলার ইস্যু প্রাধান্য পেলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে হাত মেলাতে কোনও সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘আমাদের প্রাধান্য বাংলা। সেই ব্যাপারে কংগ্রেস আমাদের পাশে থাকলে আমরাও আছি। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুতেও আমরা একজোট। আমাদের ইস্যুতে কেউ দু’পা মেলালে, আমরাও দু’পা একসঙ্গে হাঁটব।’ উল্লেখ্য, বাংলাভাষী ও বাংলা ভাষাকে অপমানের প্রতিবাদে সংসদে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। লোকসভা-রাজ্যসভায় জমা দিয়েছে মুলতুবি প্রস্তাব। একই অবস্থান কংগ্রেসেরও। এদিন তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভেও যোগ দেন কংগ্রেস সাংসদরা।
এসআইআর ইস্যুতে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি এসেছেন অভিষেক। ভোট চুরি করেই মোদি জিতছেন বলে সরব রাহুল গান্ধী। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর স্ট্র্যাটেজি তৈরিতেই এদিন সংসদ ভবনের কাছে, ৫ সুনেহরি মার্গের বাংলোয় নৈশভোজে মিলিত হন বিরোধীরা। ঠিক হয়, আগামী সোমবার সংসদ ভবন থেকে কীভাবে মিছিল করে অশোক রোডে নির্বাচন সদনে যাওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, তামিল, অহমিয়ার মতো ছ’টি ভাষায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিরোধী জোটের সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছেন। উল্লেখ্য, সেদিনই নির্বাচন কমিশনের অদূরে বাবা খড়্গ সিং মার্গে নতুন সাংসদদের জন্য ১৮৪টি ফ্ল্যাটের উদ্বোধন কর্মসূচি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিস তাদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিরোধীদের। যদিও ঘেরাও কর্মসূচি থেকে পিছু হটার সম্ভাবনা নেই বলেই বিরোধী শিবির সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, বহরমপুর সহ কয়েকটি জায়গায় সাংগঠনিক বৈঠক ডাকায় অভিষেক সেদিন কমিশন ঘেরাও অভিযানে থাকবেন না। তৃণমূলের অন্যরা যোগ দেবেন কর্মসূচিতে। রাহুলকে সেকথা জানিয়েও দিয়েছেন অভিষেক। যদিও তাঁকে থাকার জন্য অনুরোধ করেছে কংগ্রেস।
সোমবারের কর্মসূচিতে শক্তি বাড়াতে আম আদমি পার্টিকেও সঙ্গে পেতে মরিয়া বিরোধীরা। বর্তমানে কংগ্রেসের সঙ্গে আপের সম্পর্ক খারাপ হলেও এসআইআর ইস্যুতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলকে পাশে পেতে মধ্যস্থতা করেছে তৃণমূল। আপও রাজি। তবে শর্তসাপেক্ষে। তারা জানিয়েছে, এই কর্মসূচি মহাজোট ইন্ডিয়ার নয়, বরং বিরোধী জোটের বলতে হবে। সেই দাবি মেনে নিয়েছে কংগ্রেসও। ফের মজবুত হচ্ছে মোদি-বিরোধী শক্তি।