Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা অভয়ার বাবা-মায়ের, সহমর্মিতা জানাতে কেন দলীয় বিধায়কদের অংশগ্রহণ? প্রশ্ন খোদ বিজেপির অন্দরেই

অভয়াকাণ্ডে নবান্ন অভিযান ঘিরে ফের বঙ্গ বিজেপিতে ফাটল চওড়া হল

প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা অভয়ার বাবা-মায়ের, সহমর্মিতা জানাতে কেন দলীয় বিধায়কদের অংশগ্রহণ? প্রশ্ন খোদ বিজেপির অন্দরেই
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভয়াকাণ্ডে নবান্ন অভিযান ঘিরে ফের বঙ্গ বিজেপিতে ফাটল চওড়া হল। বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক শনিবার বারবেলায় রাস্তায় সামান্য লম্ফঝম্প করেন। কিন্তু মূল নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিলেন। কেন? জবাবে গেরুয়া পার্টির রাজ্য কমিটির এক প্রবীণ নেতা বলেন, এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া মানে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করা। কারণ, অভয়ার বাবা-মা সরাসরি সিবিআইয়ের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। সিবিআই অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করে একরাশ হতাশা উগরে দিয়েছেন। খোদ অমিত শাহের দেখা পাননি বলে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। তদন্ত করে সিবিআই ইতিমধ্যে চার্জশিট পেশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সিবিআই ‘বোগাস’ বলে তোপ দেগেছেন অভয়ার বাবা-মা। কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ  ও প্রশিক্ষন মন্ত্রকের অধীনে রয়েছে এই তদন্তকারী এজেন্সি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বভাবতই সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা মানে, প্রত্যক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া। তাই এই আন্দোলন থেকে আদি বিজেপি নেতারা সরে গিয়েছেন। কেন না, দলে থেকে মোদির সমালোচকদের পাশে দাঁড়ানো নীতিগত ভাবে অসম্ভব।

Advertisement

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, পতাকা ছাড়া দলের নেতা-কর্মীরা নবান্ন অভিযানে সামিল হবেন। অথচ এদিন বাস্তবে তা চোখে পড়েনি। শমীকবাবু নিজেই রাস্তায় নামেননি। কেন তিনি এদিনের আন্দোলনে যোগ দিলেন না, সেই প্রশ্নের জবাব মেলেনি রাজ্যসভার এমপি’র তরফে। বরং তিনি নিজেকে ঘরোয়া কর্মসূচিতে ব্যস্ত রেখেছিলেন। প্রাক্তন বঙ্গ প্রধান সুকান্ত মজুমদার নিউটাউনের বাড়িতে রাখিবন্ধন উৎসবে মেতেছিলেন। যদিও পবিত্র এই তিথিতে বিজেপির নব্য ও তৎকাল কিছু নেতা রাজপথে জঙ্গি আন্দোলন চালালেন। যা আখেরে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে গেরুয়া ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে পার্টির একাংশ। তাঁদের দাবি, হিন্দুদের কাছে রাখি উৎসব অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এদিন সকাল থেকে কলকাতা-হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় নবান্ন অভিযান ঘিরে তুলকালাম বাঁধে। যার জেরে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রবল যানজট হয়। ভাই কিংবা বোনের বাড়িতে উপহার হাতে বেরিয়ে পথেই দীর্ঘসময় আটকে যান বহু মানুষ। আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েই অনেকে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। সচেতনভাবে এই ইস্যু লুফে নিয়েছে শাসকদল তৃণমূল। রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, বিজেপি বাঙালি সংস্কৃতির বিরোধী, এমনকী হিন্দু সংস্কৃতি বিরোধীও। তা না হলে, দূরের জেলা থেকে কিছু মানুষ এনে রাখি উৎসবের পবিত্র দিনে হাঙ্গামা পাকানোর চেষ্টা করে! সাধারণ মানুষকে রাখি উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত করেছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, যে বিজেপি সিবিআইয়ের বর্তমান মালিক, তাদের সঙ্গে নবান্ন যাচ্ছেন অভয়ার বাবা-মা! এটা দ্বিচারিতা নয়? রাজনৈতিক মহলের চর্চা, সবমিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির মূল নেতৃত্ব ও কর্মীদের ছাড়া রাস্তায় নেমে, আখেরে পার্টির চোখে ভিলেন বনে গেলেন বিরোধী দলনেতা সহ কয়েকজন বিধায়ক।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ