নিজস্ব প্রতিনিধি বারাকপুর: তাঁর ডাক্তার মেয়ের দেহের তড়িঘড়ি সৎকার মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের অতীত ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ। শুক্রবার সকালে বারাকপুর গান্ধীঘাটের অনুষ্ঠানে যোগ দেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে ‘অভয়া’র দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার বিষয়টিতে সিবিআই প্রথম থেকেই চূড়ান্ত উদাসীন ছিল। সাংবাদিকদের সামনে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বারবার দরবার করা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে কোনো গুরুত্বই দেননি।
আদালতের নির্দেশে এই নতুন তদন্তভার ফের সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। স্পষ্ট করে দেন, পরিবার কখনোই এই তদন্তভার ওদের হাতে যাক তা চায়নি। তবে তাঁর মতে, এটি আর জি করের মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলার সমান্তরাল কোনো প্রক্রিয়া নয়। এটি তাঁর মেয়ের নিথর দেহ বলপূর্বক পুড়িয়ে দেওয়ার অপরাধের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ পৃথক আইনি লড়াই। সম্প্রতি তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন তিনি। রত্না দেবনাথের সংযোজন, তদন্ত শুরু হয়েছে মানেই সুবিচারের আশা এখনো বেঁচে রয়েছে।
তড়িঘড়ি দেহ সৎকার মামলায় নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের জামিন হলেও এই আইনি লড়াই এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। মনে করেন রত্নাদেবী। অন্যদিকে, তাঁর দাবি, সোমনাথ দে’র কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগকেই সত্য প্রমাণ করেছে। আইনি জটিলতার খুঁটিনাটি এড়িয়ে অভয়া হত্যার চক্রান্ত ও পাশবিক অত্যাচারের চূড়ান্ত সুবিচারের দাবিতে তিনি যে একচুলও নড়ছেন না, সে-কথা এদিন আরও একবার মনে করিয়ে দেন।