নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে বিজেপি প্রভাবিত ‘নবান্ন অভিযান’ কার্যত ফ্লপ। অন্যদিকে, বিকেলে বাম দলগুলি প্রভাবিত অভয়া মঞ্চের ডাকে ‘কালীঘাট চলো’ তুলনায় সফল। শনিবার বিকেলে হাজরা মোড়ে অভয়া মঞ্চের সদস্য সহ বহু সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। পুলিস আগেই বলেছিল, কালীঘাট যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই হাজরা মোড় থেকে খানিক দূরেই স্টিলের ব্যারিকেড, জলকামান নিয়ে রণসজ্জায় সজ্জিত ছিল পুলিস। অভয়া মঞ্চের মিছিল এক পাও এগতে পারেনি। তারা হাজরাতেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। অভয়া মঞ্চের অভিযোগ, হাজরা মোড়ে মঞ্চ বাঁধতে পুলিস তাদের বাধা দেয়। তারপরেও সেখানেই মঞ্চ বেঁধে সমাবেশ হয়।
শন্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভে সিপিএম সহ অন্যান্য বামদলের একাধিক নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়। হাজরা মোড়েও অভয়ার বাবা-মায়ের আসার কথা ছিল। কিন্তু নবান্ন অভিযানে অভয়ার মা আহত হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি। অভয়া মঞ্চের সদস্যরা সভা শেষে তাঁকে দেখতে যান। এই বিষয়ে অভয়া মঞ্চের আহ্বায়ক চিকিত্সক তমোনাশ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে অভয়ার মায়ের মাথায় আঘাত লাগল কাদের জন্য? যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, তাঁদেরও সেই দায়িত্ব নিতে হবে। পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তো আছেই। তার সঙ্গে এটাও বলার দরকার।’
এদিনের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন কালীগঞ্জে দুষ্কৃতী হামলায় মৃত সিপিএম পরিবারের মেয়ে তামান্নার মা-বাবা, আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁর নির্যাতিতার পরিবারও। তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন শেখ মঞ্চ থেকে বলেন, ‘আমার মেয়ে তামান্না আজ আর নেই। তামান্নার মাত্র ন’বছর বয়স হয়েছিল। বিজেপি-তৃণমূল-কংগ্রেস-সিপিএম সে জানত না। ও শুধু ভারতের পতাকা চিনত। কেন আমার মেয়েটাকে মারা হল?’
সভা চলাকালীন একটা সময় মঞ্চ থেকেই উদ্যোক্তারা হাজরা মোড়ের একটি অংশ প্রতিবাদীদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ভিড়ের চাপে তা সম্পূর্ণ হয়নি। এছাড়াও এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষজন। মীরাতুন নাহার, শ্রীলেখা মিত্ররা বক্তব্য রাখেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাদে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ হয়।