Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিত্যক্ত গোলাবারুদ মজুতের ঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে মনে করায় ওরগ্রাম এয়ারবেস

পরিত্যক্ত গোলাবারুদ মজুতের ঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে মনে করায় ওরগ্রাম এয়ারবেস
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, ভাতার: তখন চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। চারদিকে যুদ্ধের দামামায় আতঙ্কিত আমজনতা। কখন যে আকাশ থেকে ভয়ানক বোমা এসে পড়বে, তা কারও জানা নেই। চারদিকে শুধুই মৃত্যু সংবাদ। আকাশে চক্কর কাটছে যুদ্ধ বিমান। জাপান রেঙ্গুন দখল করে নিয়েছে। মার্কিন বায়ুসেনা প্রত্যাঘাত করার জন্য বার্মা থেকে বহুদূরে ভাতারে তৈরি করে একটি এয়ারস্ট্রিপ।  লক্ষ্যে আঘাত করতে ভাতারের ওরগ্রাম থেকেও উড়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনাদের বিমান। ওরগ্রামে এয়াস্ট্রিপের পাশেই ছোট ছোট ঘরে গোলা বারুদ মজুত করা হয়েছে। প্রয়োজন মতো তা যুদ্ধ বিমানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব সময় যুদ্ধের প্রস্তুতি। বিমানের ওঠানামা। ভাতারের প্রত্যন্ত এলাকা ওরগ্রামের গুরুত্বই তখন ছিল অন্যরকম। 

Advertisement

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই দিন গুলির স্মৃতি এখনও বয়ে চলছে ওরগ্রামের এই এয়ারস্ট্রিপ। তখনকার মতো সেই জৌলুস নেই। চারদিক জঙ্গলে ঘেরা। এয়ারস্ট্রিপে ফাটল ধরেছে। উপরের অংশ এবড়োখেবড়ো হয়ে গিয়েছে। আগাছাও গজিয়ে উঠেছে। গোলা বারুদ রাখা সেই ঘর গুলি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে বসেছে।  এই এলাকায় পা রাখলে ইতিহাস বইয়ে পড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই দিন গুলির কথা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীরা এই এলাকা ঘুরে দেখেন। গবেষণাও করেন কেউ কেউ।  তাঁদের আফসোস, বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এয়ারবেসটির সংরক্ষণ জরুরি। স্থানীয়দের দাবিও তাই। তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলে জানা গিয়েছে।  
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করেছিল ব্রিটিশরা। বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের সূরচোয়াতেও এমনই এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেটি এয়ারফোর্স ব্যবহার করে। কিন্তু ওরগ্রামে এই এয়ারস্ট্রিপ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে. এই এলাকাটি নিজেদের কাজে ব্যবহার করে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলছে ওরগ্রাম। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করলে সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারত। এতবড় জায়গা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে।’ ভাতারের বাসিন্দা তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, ‘অনেকেই এয়ারস্ট্রিপের ইতিহাস জেনে এখানে ঘুরতে আসেন। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যান। স্থানীয়রা বলেন, এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নজরকাড়া। চারদিকে জঙ্গল। নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এক অন্য পরিবেশের অনুভূতি পাওয়া যায়। কলকাতা থেকে বোলপুর যাওয়ার পথে এই এলাকায় আসা যায়। গুসকরা থেকেও অনেক কাছে এলাকাটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভৌগোলিক কৌশলগত কারণেই এখানে এয়ারস্ট্রিপটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই এয়ারস্ট্রিপের ভূমিকাও ছিল অনবদ্য। ইতিহাসবিদরা বলছেন, এখন আবার নতুন করে চারদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি। বিশ্ব বিভিন্ন দেশ আড়াআড়ি ভাবে ভাগ হয়ে রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের পরিণাম কতটা ভয়ঙ্কর, তা ওরগ্রামের এই এয়ারস্ট্রিপ যেন মনে করিয়ে দেয়। ধ্বংসস্তূপ হতে বসা ভাঙা ঘর গলিতে কান পাতলে শোনা যায় যুদ্ধ-ইতিহাসের অনেক অজানা কাহিনি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ