Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেনে বচসা, বিরাটি স্টেশনে সহযাত্রীর মারে মৃত্যু যুবকের

তীব্র গরম। তার মধ্যে ট্রেনের প্রতিটি কামরায় উপচে পড়া ভিড়। গলদঘর্ম অবস্থায় ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি।

ট্রেনে বচসা, বিরাটি স্টেশনে সহযাত্রীর মারে মৃত্যু যুবকের
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তীব্র গরম। তার মধ্যে ট্রেনের প্রতিটি কামরায় উপচে পড়া ভিড়। গলদঘর্ম অবস্থায় ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি। এই অবস্থায় কামরার দরজা আটকে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে ভিতর থেকে অনেকে প্রতিবাদ করেন। একটু হাওয়া ঢোকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। তা নিয়ে ছোটখাটো উত্তেজনা, বাগবিতণ্ডা হয়েই থাকে। এসব শিয়ালদহ শাখার লোকালের রোজনামচা বলা চলে। কিন্তু এই কারণে সহযাত্রীর মারে মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে শোনা যায়নি। সেটাই ঘটল বিরাটি স্টেশনে। ট্রেনের দরজা আটকে দাঁড়ানো নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত হয়েছিল শনিবার রাতে। বিরাটি স্টেশনে নেমে এক যাত্রীকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তাঁকে রেললাইনে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম ওই ট্রেনযাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা গিয়েছেন। রেল পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম গোপাল দাস (৪৩)। অভিযুক্ত যাত্রী অনুপকুমার চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে এদিন বারাসত এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, গোপাল দাসের বাড়ি নিমতা থানার মিলনগড়ের ফতুল্লাপুর এলাকায়। তিনি কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। বাড়িতে আছেন স্ত্রী, ১০ বছরের পুত্র এবং বৃদ্ধ বাবা-মা। ধৃতের বাড়ি নিমতা থানার বিরাটি স্টেশন লাগোয়া বিবেকানন্দ রোড সর্দারপাড়ায়। গোপালবাবু ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী নন। মাঝেমধ্যে বাইক বা বাসে যাতায়াতও করতেন তিনি। শনিবার রাত ৮টা ৩৯মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ থেকে বারাসতগামী ট্রেনে ওঠেন তিনি। প্রচণ্ড ভিড়ের জন্য তিনি দরজা থেকে সামান্য ভিতরে দাঁড়িয়েছিলেন। অভিযুক্ত অনুপ দমদম স্টেশন থেকে সেই ট্রেনে উঠে কার্যত দরজা আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন। অনেক যাত্রীই এভাবে দাঁড়ানোর প্রতিবাদ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গোপালবাবু। প্রথমে বচসা, তারপর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয় দু’জনের। বিরাটি স্টেশনে নেমে একে অপরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থেকে নামার পর ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময় অনুপ গোপালবাবুকে সজোরে ঘুসি মেরে তাঁকে রেললাইনের দিকে  ঠেলে দেন বলে অভিযোগ। গোপালবাবু মাথায় জোরালো আঘাত পান। প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত লোকজনই  অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। গোপালবাবুকে উদ্ধার করে তাঁরাই উত্তর দমদম পুরসভার হাসপাতালে পাঠান। পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক নার্সিংহোমে স্থানান্তর করে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় গোপালবাবুর। 
শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন মৃতার স্ত্রী মনিকা বসাক দাস। মৃতের বন্ধু রাজু সরকার বলেন, ‘চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে আশা ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। অপরাধীর কঠোর সাজা চাই।’ মৃতের পরিবারের আইনজীবী সৌরভ গুহ বলেন, ‘বচসা থেকে এমন ঘটবে, কল্পনা করা যায় না।’  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ