সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের হাত থেকে স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে বলাই হল অপরাধ। আয়ার হাতে বেধড়ক মার খেতে হল বৃদ্ধার মেয়েকে। অভিযোগ, ওই বধূর মাথা থেকে ছিঁড়ে নেওয়া হল চুল। ধস্তাধস্তিতে তাঁর কানের দুল ছিঁড়ে পড়ে। ঘটনায় তোলপাড় হাসপাতাল। আয়ার দাদাগিরিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বধূ। তাঁকে চিকিৎসা করাতে হয়। ঘটনায় নিন্দায় সরব রোগীর আত্মীয়স্বজনরা। যদিও পালটা আয়াকেও মারধর করার অভিযোগ উএঠছে ওই বধূর বিরুদ্ধে। শেষে কাটোয়া থানার পুলিস, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সুশান্তবরণ দত্ত বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ১৫ মার্চ ভর্তি হন বৃদ্ধা রূপসী ভক্ত। তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত। তাঁর বাড়ি নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার চর চোয়াডাঙ্গা এলাকায়। ওই বৃদ্ধার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন তাঁর মেয়ে সান্তনা ভৌমিক। এদিন বৃদ্ধাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। এরপর সান্তনা দেবী একজন আয়াকে তাঁর মায়ের হাতে থাকা স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে অনুরোধ করেন। অভিযোগ, ওই আয়া স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে রাজি হননি। এরপরেই নাকি দু’ জনের মধ্যে বচসা বেধে যায়। অভিযোগ, সান্তনা দেবীকে মহিলা বিভাগের মধ্যেই বেধড়ক পেটানো হয়। তাঁর মুখে কিল, চড়, ঘুষি মারা হয়। এমনকি বধূর চুলের মুঠি ধরে চুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়। সান্তনা দেবী বলেন, আমি শুধু বলেছিলাম মায়ের হাত থেকে স্যালাইনের চ্যানেলটা খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এভাবে আমাকে মার খেতে হবে ভাবতে পারছি না। আমার মাথার চুল ছিঁড়ে দেওয়া হয়। আমি ওই আয়াকে মারধর করিনি।
পালটা মারধরের অভিযোগ তোলেন ওই আয়া। তিনি বলেন, ওই রোগীকে আমি দেখাশোনা করছিলাম না। আমি শুধু বলেছিলাম, যিনি চ্যানেল করেছেন তাঁরাই খুলবেন। আর আমাকে তেড়ে মারধর করল ওই বধূ।
তবে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আয়াদের দাপট নতুন নয়। এর আগেও আয়াদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তারপরেও বেশ কয়েকজন আয়া মৌরসিপাট্টা চালান বলে অভিযোগ। এদিন এক রোগীর আত্মীয় জানান, আয়াদেরও আমাদের দরকার। কিন্তু ব্যবহারটা অন্তত ভালো করুক। হাসপাতালে ভর্তি হলে কোনও দরকার হলে কিছু বলতে গেলেই চিৎকার করে দুর্ব্যবহার করা হয়।