Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২ সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা বধূর,বড়ঞায় বালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে বাঁচল তিনটি জীবন

পরিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোলের দুই সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক গৃহবধূ।

২ সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা বধূর,বড়ঞায় বালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে বাঁচল তিনটি জীবন
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: পরিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোলের দুই সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক গৃহবধূ। বুধবার সকালের বড়ঞা থানার কুলি চৌরাস্তায় ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি জানতে পেরেই গৃহবধূর কাছ থেকে কীটনাশকের পুরিয়া কেড়ে সন্তান সহ মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। থানার এক অফিসার জানান, কেউ কোনও অভিযোগ জানাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কুলি চৌরাস্তা মোড়ের একটি ছোট গলিতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢোকেন ওই গৃহবধূ। এরপর সেখানে কীটনাশকের পুরিয়া খুলে জল দিয়ে নরম করে গোল দানা পাকিয়ে মুখে ঠেকিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন। মায়ের কান্না দেখে কোলে থাকা ছোট মেয়েটিও কাঁদছিল। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখছিল স্থানীয় এক বালক। খারাপ একটা কিছু ঘটতে চলেছে অনুমান করে সে আশপাশের ব্যবসায়ীদের জানায়। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন ব্যবসায়ী সেখানে গিয়ে গৃহবধূর হাত থেকে কীটনাশকের বড়ি কেড়ে নেন। এরপর স্থানীয়রা বড়ঞা থানায় খবর দেন।

ওই গৃহবধূ জানান, বিয়ের দু’বছর পর থেকেই স্বামী আমাকে অমানুষের মতো মারধর করছে। নেশা করে সন্তানদেরও মারধর করে। এই অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে এসেছি। মৃত্যু ছাড়া আমার সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। তাই দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও মরব বলে ঠিক করেছিলাম।

গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ি বড়ঞা থানার মুড্ডা গ্রামে, যা কুলি চৌরাস্তা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। গৃহবধূর বাপেরবাড়ি শিলিগুড়িতে। ভালোবাসা করে মুড্ডা গ্রামের এক যুবককে তিনি বিয়ে করেছিলেন।

ওই গৃহবধূর প্রতিবেশী শ্যামল মাঝি বলেন, ওদের বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হয়। প্রথম প্রথম আমরা মিটমাট করেছি। কিন্তু, এখন আর কেউ যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের বড়ঞা উত্তর সভাপতি গোলাম মুর্শিদ বলেন, এদিন ওই গৃহবধূ চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছিলেন, যা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

কুলি চৌরাস্তার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, একটি বাচ্চা ছেলে মা ও তাঁর দুই সন্তানের প্রাণ বাঁচাল। ছেলেটি ব্যাপারটি বুঝতে পেরেই আমাদের খবর দিয়েছিল। সেজন্য আমরা ওই গৃহবধূ ও তাঁর দুই সন্তাকে বাঁচাতে পেরেছি। গৃহবধূর শাশুড়ি বলেন, এদিন সকালে ছেলেদের খাবার দেওয়া নিয়ে অশান্তি হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ