নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একা গরমে রক্ষে নেই তার উপর দূষণ দোসর।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একা গরমে রক্ষে নেই তার উপর দূষণ দোসর।
কলকাতার তাপমাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সকাল হতে না হতেই চড়া রোদ। কালঘাম ছুটছে শহরবাসীর। সাধারণত গরম বাড়তে থাকলে বাতাসে দূষণের মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। কিন্তু এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে শীত কার্যত উধাও হয়ে গরম বাড়লেও একিউআই স্বস্তি দিচ্ছে না। আগের থেকে দূষণ কমলেও তা স্বস্তিজনক মোটেও নয়। পরিবেশবিদরা বলছেন, ‘এর নেপথ্যে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল।’ ফলে মুক্ত বাতাসে ঠিক করে শ্বাস নিতে এখনও পারছে না কলকাতা।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাতাস এখনও ‘হলুদ’ জোনে রয়েছে। ‘হলুদ’ জোনের অর্থ হল, ‘মডারেট’। অর্থাত্ বাতাসে দূষণের মান এরকম থাকলে হার্ট, ফুসফুস কিংবা হাঁপানির সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। বৃহস্পতিবার কলকাতার একিউআই ছিল ১৭৭। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে হলুদেই আটকে কলকাতা। ‘সবুজ’ জোনে এখনও প্রবেশ করতে পারেনি। অর্থাত্ স্বস্তির শ্বাস নিতে এখনও পারেনি শহর। জানুয়ারি মাসে ১৩ দিন ‘কমলা’ জোনে ছিল কলকাতা। অর্থাত্ একিউআই ২০০ পেরিয়ে গিয়েছিল। সেদিক থেকে ফেব্রুয়ারি মাস তুলনায় কিছুটা ভালো। কিন্তু স্বস্তির শ্বাস এখনও অধরা।
শীত প্রায় চলে যাওয়ার পরও এমন পরিস্থিতি কেন? পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী ব্যাখ্যা করেছেন, ‘এখন নিম্নচাপ কিংবা পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সময় চলছে। আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব সেভাবে ঘণীভূত হয়নি। এই সব কারণের জন্যই ধরে নেওয়া যায়, একিউআই একটু কম দেখাচ্ছে। তার উপর এখন উত্তুরে হাওয়াও নেই। আসলে সেই হাওয়া দিলে তবেই তো বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাবে। তবেই একিউআই ভালো হবে।’ কিন্তু সেরকম হাওয়া এখনও পর্যন্ত অন্তত কলকাতায় বইছে না। তার উপর রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। উষ্ণায়নের ফলে এই সময় হঠাত্ তাপমাত্রা বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকেছে। এই সময় আশা করা গিয়েছিল, একিউআই কমের দিকে থাকবে। কিন্তু সমস্ত বিষয়গুলো যেহেতু ওলটপালট হয়ে গিয়েছে, তাই একিউআই কমছে না। যদি এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা নিম্নচাপের প্রভাব বাড়ে তবেই একিউআই কমবে, জানালেন স্বাতীদেবী। অন্যান্য পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়েও। তাঁদের কথায়, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে ঠান্ডা থাকা দরকার। এখনই এতটা গরম পড়ার কথা নয়। এই বিষয়টি ভাবাচ্ছে।’