Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কয়েকটি ঘর ও অ্যাটাচড টয়লেট থাকলেই হোটেল নয়, বলছে পর্যটন সংগঠন

একটি চারতলা বিল্ডিং। তাতে কয়েকটি ঘর। সংযুক্ত টয়লেট। এই ফরম্যাটেই কলকাতা থেকে জেলার নানা প্রান্তে, বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে রমরমিয়ে চলছে হোটেল ব্যবসা।

কয়েকটি ঘর ও অ্যাটাচড টয়লেট থাকলেই হোটেল নয়, বলছে পর্যটন সংগঠন
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটি চারতলা বিল্ডিং। তাতে কয়েকটি ঘর। সংযুক্ত টয়লেট। এই ফরম্যাটেই কলকাতা থেকে জেলার নানা প্রান্তে, বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে রমরমিয়ে চলছে হোটেল ব্যবসা। কিন্তু কিছু ঘরে অ্যাটাচড টয়লেট থাকলেই আর হোটেল হয়ে যায় না। হোটেল ব্যবসার জন্য মানতে হয় নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন। হোটেল ব্যবসায় নেমে যারা ন্যূনতম নিয়ম মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্পষ্ট দাবি জানাল পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মূল বক্তব্য, অবৈধভাবে যারা হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেই হবে। তাদের প্রশ্ন, অন্যের অজ্ঞতার কারণে বাকিদের দিকে কেন আঙুল উঠবে? ওইসঙ্গে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের দাবি, জেলাস্তরে প্রশাসনিকভাবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

Advertisement

এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের দুই প্রান্তে দুটি বড়ো দুর্ঘটনা একাধিক প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। বীরভূমের তারাপীঠ এবং কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এখন আম জনতার মুখে মুখে ঘুরছে একাধিক প্রশ্ন: হোটেলগুলিতে পর্যটকদের সুরক্ষায় কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেই? কেন হোটেলগুলি আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকছে না? কেন হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে ২৪ ঘণ্টা লোক থাকছে না? হোটেলে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য কেন একাধিক ব্যবস্থা কার্যকর নেই? তারাপীঠ ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে কি কোনো সজাগ দৃষ্টি দেওয়া হবে?
এই প্রশ্নগুলি যখন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উঠে এসেছে, তখন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের কর্তারাও একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব টুর অপারেটার্সের পশ্চিমবঙ্গের চ্যাপ্টার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত বলেন, কারও টাকা আছে বলে হোটেল বানিয়ে নিলাম কিংবা ঘরের সঙ্গে টয়লেট আছে দেখিয়ে হোটেল বলে দাবি করলাম, বিষয়টি এত সহজ নয়। হোটেল ব্যবসা ফাজলামি করার জায়গা নয়। সম্যক জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপস্থিত বুদ্ধি থাকা জরুরি। প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি অনুসরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। হোটেলগুলির ক্লাসিফিকেশন আছে। যারা নিয়ম মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ করা কর্তব্য। দেবজিৎবাবুর আরও দাবি, জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় স্তরে হোটেল, গেস্ট হাউস, হোমস্টেগুলির উপর ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হোক। যে যেখানে পারছে, হোটেল খুলে ফেলছে, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পর্যটকদের দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হোক।
অ্যাসোসিয়েশন অব টুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গলের কর্তা সমর ঘোষ বলেন, হোটেলগুলিতে যথোপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা, তা প্রশাসনের তরফে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। হোটেলগুলিতে আবাসিকদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের যাবতীয় ব্যবস্থা রয়েছে কি না, প্রতিবছর রিনিউয়ালের সময় তা খতিয়ে দেখা দরকার। তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন এখনই সজাগ ও সতর্ক না-হলে আগামী দিনে আরও বড়ো দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ