সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ‘ককরোচ’, ‘দিমাগী নকশালের’ মতো জেন-জি নেতৃত্বের ঠিকুজি-কোষ্ঠির খোঁজে এবার মরিয়া কলকাতার গোয়েন্দারা। আক্ষরিক অর্থেই, ‘টিকটিকি’র দল মরিয়া হয়ে পিছু নিয়েছে ‘ককরোচ’-এর! সদ্যোজাত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আর ‘দিমাগী নকশালে’র খোঁজ করতে নেমে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের মিসলেনিয়াস শাখার গোয়েন্দাদের এখন ঘুম উড়েছে।
১৯০৯ সালের কথা। স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার বিপ্লবীদের দাপটে কলকাতায় তখন ত্রস্ত ইংরেজ বাহিনী। কুখ্যাত চালর্স টেগার্টের পরামর্শে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ফেডরিক লোচ হ্যালিডে স্পেশাল ব্রাঞ্চ গঠন করেন। জন্মলগ্নে স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাজ ছিল, বিপ্লবীদের গোপন খবর সংগ্রহ করা। তাই বিপ্লবীরা তাঁদের কটাক্ষ করে নাম দিয়েছিলেন ‘টিকটিকি’!
দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত জেন-জি আন্দোলনের পর কার্যত ফাঁপরে পড়েছেন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্তারা। এতকাল স্পেশাল ব্রাঞ্চে হিন্দু, মুসলিম, স্টুডেন্ট সেল, লেফট উইং, রাইট উইংয়ের মতো সুনির্দিষ্ট কিছু বিশেষ শাখা ছিল। সদ্যোজাত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং দিমাগী নকশালদের উপর নজরদারি চালানোর জন্য কোনো শাখা ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে মিসলেনিয়াস শাখার গোয়েন্দাদের এই নজরদারির ভার দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক বিশেষ সূত্রের খবর, ‘২০২৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে পারে জেন-জি প্রজন্ম। বিশেষ করে বেকারত্ব, সংরক্ষণ, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ইস্যুতে আগামী দিনে আন্দোলনের নামে ফের হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত করতে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ একাধিক বিদেশি শক্তি টাকা ঢালছে এই জেন-জি আন্দোলনে।’
তাই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গোয়েন্দাদের পাশাপাশি কলকাতায় এখন কেন্দ্রের গোয়েন্দারাও কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টি এবং দিমাগী নকশালদের উপর। কিন্তু সমস্যা একটাই, কলকাতায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনের ধারা বা উপদলীয় কার্যকলাপ সংক্রান্ত গোপন ফাইল স্পেশাল ব্রাঞ্চের হাতে রয়েছে। কিন্তু সেখানে সিজেপি বা দিমাগী নকশালদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে গিয়ে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। যা তাঁদের মাথাব্যথার কারণ।