Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিএলও’র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে সোর্সকে দিয়ে ফোন শিক্ষকদের একাংশের

কেউ নেতা-মন্ত্রী ধরছেন, কেউ আবার সোর্স খাটিয়ে কোনও পদস্থ সরকারি আধিকারিককে দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

বিএলও’র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে  সোর্সকে দিয়ে ফোন শিক্ষকদের একাংশের
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য হিড়িক পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। কেউ নেতা-মন্ত্রী ধরছেন, কেউ আবার সোর্স খাটিয়ে কোনও পদস্থ সরকারি আধিকারিককে দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। যাতে ওই তালিকা থেকে নিজের নাম কাটানো যায়। 

Advertisement

এই জেলায় শিক্ষকদের বড় অংশই ভোটের ডিউটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই কৌশল নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলায় কমিশনের দপ্তরে এ সংক্রান্ত ফোন আসতে শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিঠি-চাপাটি, মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে হাজির হচ্ছেন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের পাশাপাশি বিধানসভা কেন্দ্রওয়াড়ি অফিসেও জমা পড়ছে আবেদন। তবে বিএলও’র দায়িত্ব থেকে কাউকেই অব্যাহতি দেওয়া হবে না বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে এ ব্যাপারে সব থেকে বেশি ফোন আসছে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে। সবারই আব্দার, অমুককে বিএলও’র দায়িত্ব থেকে রেহাই দেওয়া হোক। যাঁদের জন্য তাঁরা তদ্বির করছেন, তাঁদের সিংহভাগই শিক্ষক। তবে এই সুপারিশ মানার অবস্থায় নেই প্রশাসন। কারণ এমনিতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বুথ লেভেল অফিসারের অভাব রয়েছে। তার উপর যদি একের পর এক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে ভোটের প্রস্তুতি ব্যাহত হবে। তাই যাঁরা ফোন করছেন, তাঁদের বেশিরভাগকেই সরাসরি না বলে দেওয়া হচ্ছে। জেলা আধিকারিকদের কথায়, অতীতে বিএলও’র কাজ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খুবই কম আসত। কিন্তু এবার যেভাবে শিক্ষকদের একাংশ নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করতে অনীহা দেখাচ্ছেন, তাতে পরবর্তীকালে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কে বা কারা বিএলও হতে পারবেন, নির্বাচন কমিশন তা স্পষ্ট  করে দিয়েছে। সেই নির্দেশ পালন করতে বাধ্য জেলাগুলি। কেউই তার ঊর্ধ্বে নয়। তাই শিক্ষকরা যতই সমস্যার কথা তুলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করুন না কেন, জেলার নির্বাচনী অফিস তাঁদের কোনও ছাড় দিতে নারাজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ