Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

এক ঋষির কথা

পুরুলিয়ার ঋষি নিবারণচন্দ্রের জীবন ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অবদান স্বাধীনতা আন্দোলনে অপরিসীম। বিস্তারিত পড়ুন।

এক ঋষির কথা
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: ন্যমনস্ক চোখে সামনের শুকনো বাগানের দিকে তাকালেন অতুলচন্দ্র। পুরুলিয়ার ভয়ংকর গ্রীষ্মকাল কিছুদিনের মধ্যেই রুদ্ররূপ ধরে এসে উপস্থিত হবে। বাতাসে তারই ইঙ্গিত। 

Advertisement

‘উনি কখন আসবেন, সেটা বোধহয় এখনও ঠিকঠাক জানা যায়নি, তাই না দাদা?’ ভজহরি জিজ্ঞাসা করলেন। 
অতুলচন্দ্র উত্তর দিলেন, ‘ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এসে পড়া উচিত। তাঁর আসা তো আর আমাদের মতো নয় হে! যেখানেই থামেন, সেখানেই লোক ভেঙে পড়ে। সবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসা।’ 
ভজহরি মাথা নাড়লেন, ‘তা তো হবেই।’ তারপর পাশের ঘরটার দরজার দিকে ইশারা করে বললেন, ‘আজ আছেন কেমন মাস্টারমশাই?’ 
‘ওই একই রকম। এত যে চিকিৎসা চলছে, উন্নতি তো কিছু দেখছি না।’ 
‘বয়স কত হল মাস্টারমশাইয়ের?’ 
‘কত আর হবে? সাতান্ন চলছে! এত অত্যাচার চলেছে শরীরটার উপর দিয়ে! খাওয়া-দাওয়ার ঠিক থাকত না, ঘুম নেই, তার উপর আজ এই জেলে, কাল ওই জেলে। নিজের দিকে তাকালেন কবে?’ 
গত তেরোটা বছর প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে এই মানুষটার সঙ্গে কাটিয়েছেন অতুলচন্দ্র। সেই ১৯২১ যখন রাজেন্দ্রপ্রসাদ পুরুলিয়ায় এলেন, তখন একই সঙ্গে নিজের নিজের পেশা ছেড়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা দু’জন। অতুলচন্দ্র ঘোষ আর এই আশ্চর্য মানুষটা। 
নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত। আজ যেন বেশি করে সে’সব দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। বোধহয়...।
‘এই শিল্পাশ্রম কত বছর হল দাদা?’ যেন তাঁর মনের কথা আঁচ করেই বলে উঠলেন ভজহরি মাহাতো। 
‘তেরো বছর হয়ে গেল।’ মৃদু হাসলেন অতুলচন্দ্র, ‘আমিও সেই কথাই ভাবছিলাম, বুঝলে ভজহরি। ছিলাম উকিল। নেমে পড়লাম দেশের কাজে। তোমার বউদি— লাবণ্যপ্রভা— সারা জীবনে বাচ্চাগুলোর মুখে একটু ভালো খাবার তুলে দিতে পারল না। নিজেও সারা জীবন কাটিয়ে দিল ওই দেশেরই কাজে। আর ইনি ছিলেন পুরুলিয়া জেলা স্কুলের হেডমাস্টারমশাই— হয়ে উঠলেন ঋষি নিবারণচন্দ্র! আজও ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়— এমন একটা মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাটিয়ে দিলাম এতগুলো বছর!’ 
একটু নড়েচড়ে বসে ভজহরি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই কথাটা আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করব বলে কবে থেকে ভাবছি। মাস্টারমশাইকে বাইরের লোকেরা সবাই ঋষি বলে কেন? গৃহী মানুষ, সংসার ছিল, সন্তানাদি আছে...।’
মৃদু হাসলেন অতুলচন্দ্র। শিল্পাশ্রমের বাড়িটা ইংরেজি এল অক্ষরের মতো। টানা বারান্দার পাশে পরপর ঘর।
কিন্তু এই সবকিছুর প্রাণ হলেন পাশের ঘরে রোগশয্যায় শুয়ে থাকা ওই মানুষটি। নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্ত। এককথায় অত বড়ো সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশের কাজে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন জীবন, পরিবার— সব কিছু। পুরুলিয়ার গ্রামে গ্রামে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে গড়ে তুলেছিলেন জনমত। অসহযোগ আন্দোলনকে যদি কেউ পুরুলিয়ার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এই মানুষটি। স্ত্রীকে হারিয়েছেন। চার সন্তান মানুষ হয়েছে অতুলের গৃহিণী লাবণ্যপ্রভার কাছে। আর তিনি আন্দোলনের বাণী, সত্যাগ্রহ আর অহিংসার বাণী পরাধীন ভারতবর্ষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করে দিয়েছেন। 
‘ও দাদা! আজ হল কী আপনার?’ বললেন ভজহরি।
সংবিৎ ফিরে পেয়ে অতুল বললেন, ‘তোমরা তো শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা, সর্বত্যাগী নিবারণচন্দ্রকে চেনো। আমি তাঁকে চিনি অন্তর থেকে। তা সে কথা থাক। পুরাণের একটা গল্প শুনবে, ভজহরি?’ 
ভজহরি মাহাতো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। হঠাৎ নিবারণচন্দ্রের কথার মধ্যে পুরাণের প্রসঙ্গ এল কোথা থেকে? 
‘আগে সেই গল্প বলি, শোনো। নইলে বুঝবে না। ব্যাসদেব হিমালয়ের যে গুহায় তপস্যা করছিলেন, তার সামনেই ছিল এক সরোবর। একদিন ব্যাস দেখলেন, সেই সরোবরে স্নান করতে এসেছে অপ্সরারা। স্নান করতে গেলে যা হয়, কাপড়চোপড় এলোমেলো হয়ে আছে। এমন সময় ব্যাসদেবের ছেলে শুকদেব সেই সরোবরের পাড় দিয়ে হেঁটে গেলেন। অপ্সরারা তাঁকে দেখে প্রণাম করল। শুকদেব তাদের আশীর্বাদ করে যেমন যাচ্ছিলেন, চলে গেলেন।’ 
‘হ্যাঁ, তিনিও তো মহামুনি ছিলেন। প্রণাম তো করবেই।’ 
‘বটেই তো। তো ব্যাস নিজেও একটু পরে বেরিয়ে এলেন তাঁর গুহা থেকে। তাঁকে দেখে কিন্তু অপ্সরারা সব লজ্জায় জড়োসড়ো হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি পরনের কাপড় ঠিকঠাক করে, গা ঢেকে, তবে তাঁকে প্রণাম করল।’ 
‘এটা কেমন হল?’ অবাক হলেন ভজহরি, ‘একটু আগেই তাঁর ছেলে গেল ওখান দিয়ে। তখন তো...।’
‘সেটাই তো কথা! ব্যাসদেব নিজেও বেজায় অবাক হয়ে বললেন— কই, আমার ছেলের বেলায় তো এমন আচরণ করনি তোমরা! এ তো রীতিমতো অপমান!’ 
‘বটেই তো!’ 
‘‘অপ্সরারা অবশ্যি প্রথমে বললে, ‘তা কেন প্রভু? আপনি স্বয়ং ব্যাসদেব, বেদকে চার ভাগ করেছেন, মহাভারত রচনা করেছেন। এ কি কম কথা?’ কিন্তু তাদের হাবভাব দেখেই ব্যাসের মনে হতে লাগল— তারা যেন ঠিক মনের কথাটি বলছে না। তিনি কড়া চোখে তাকাতেই অপ্সরারা ভয় পেয়ে গেল।’’
‘তা তো যাবেই! মুনিঋষিরা কথায় কথায় অভিশাপ দিত, পাথর-টাথর করে দিত। রাগী লোক হত বোধহয়।’  
রীতিমতো শব্দ করে হেসে উঠলেন অতুলচন্দ্র, ‘‘বোধহয় একটানা তপস্যা করতে করতে মাথা গরম হয়ে যেত। যাইহোক, ব্যাসদেব চেপে ধরতে অপ্সরারা স্বীকার করল— শুকদেব হলেন সেই স্তরের তপস্বী, যাঁর কাছে নারী-পুরুষের কোনো ভেদ নেই। এমনকি অপ্সরারা সিক্ত বসনে তাঁর সামনে জলকেলি করলেও তাঁর মন মুহূর্তের জন্য বিচলিত হয় না। যত বড়ো পণ্ডিতই হোন না কেন, ব্যাসদেব সেই স্তরের ঋষি নন। তাঁর চোখে অপ্সরারা সেই ‘অভেদ জ্ঞান’ দেখতে পায়নি, যা তারা শুকদেবের চোখের দৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছিল।’’ 
‘শুনে বেদব্যাস বেজায় লজ্জা পেলেন নিশ্চয়ই?’ জিজ্ঞাসা করলেন ভজহরি। 
অতুলচন্দ্র উত্তর দিলেন না। কয়েক মুহূর্ত অন্যমনস্কভাবে বসে থেকে বললেন, ‘তা তো পেলেনই। কিন্তু এই গল্পটা তোমায় কেন বললাম জানো ভজহরি? ঋষি হওয়া মুখের কথা নয়। জ্ঞান থাকলে হয় না, ভক্তি থাকলে হয় না, তপস্যা থাকলেও হয় না। কী থাকলে যে হয়, সে বড়ো শক্ত কথা।’ 
ভজহরি মাহাতো বললেন, ‘ভালো কথা! আপনি তো বলতে যাচ্ছিলেন মাস্টারমশাইয়ের কথা। তার মধ্যে পুরাণের গল্প চলে এসে সব গোলমাল হয়ে গেল।’ 
‘‘কিচ্ছু গোলমাল হয়নি। এবার শোনো। কাঁথিতে যে ‘নারীকর্মী শিক্ষাকেন্দ্র’ তৈরি হয়েছিল, সেখানকার এক ভদ্রলোক আমাকে একটা অদ্ভুত গল্প বলেছিলেন।’’ 
‘মাস্টারমশাই তো এই কেন্দ্রগুলোর শিক্ষাগুরুর দায়িত্বে ছিলেন, তাই না?’ 
‘ঠিক বলেছ। মেদিনীপুর, ঢাকা, শ্রীহট্ট— তিনটে কেন্দ্রেই তিনি ছিলেন শিক্ষাগুরু। ঘুরে ঘুরে সব আশ্রমে মেয়েদের তিনি দেশের কথা বলতেন, দেশের জন্য কাজ করার কথা বলতেন, উদ্বুদ্ধ করতেন। তাদের বলতেন— শুধু সংসারের কাজ করলে চলবে না। শুধু নিজের সন্তানটিকে পালন করলে চলবে না। এই গোটা দেশ তোমার সংসার। তার প্রত্যেকটি মানুষ তোমার সন্তান।’ 
এবার ভজহরির মুখে ফুটে উঠল মৃদু হাসির রেখা। তিনি জানেন, অতুলচন্দ্র এবং তাঁর স্ত্রী লাবণ্যপ্রভা— সমস্ত জীবন দিয়ে নিবারণচন্দ্রের এই শিক্ষাকেই সফল করে তুলেছেন। ‌ 
‘তা সেই কাঁথি কেন্দ্রে একদিন মেয়েদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন নিবারণচন্দ্র।’ বলে চললেন অতুল, ‘মাঝখানে তিনি বসেছেন। কথা বলে চলেছেন অনর্গল। আর জানোই তো, সব মেয়েকেই তিনি ‘মা’ বলে ডাকেন। তো তিনি বলে চলেছেন দেশের কথা, তার সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা। আর তাঁকে ঘিরে বসে রয়েছে মেয়েরা। সংখ্যায় নেহাত কম নয় তারা, অন্তত পঞ্চাশজন তো হবেই। একেবারে তন্ময় হয়ে গিয়েছে তারা! মাস্টারমশাইয়ের কথা শুনতে শুনতে কারও ঘোমটা খসে গিয়েছে, কারও বা কাপড় সরে গিয়েছে— সেই অবস্থাতেই এক মনে শুনে যাচ্ছে গুরুদেবের কথা।’ 
‘মাস্টারমশাই যখন কথা বলেন, কার সাধ্যি চোখ ফিরিয়ে নেয়!’ সগর্বে বললেন ভজহরি। তিনি নিজেও যে নিবারণচন্দ্রেরই শিষ্য! 
অতুলচন্দ্র বলতে লাগলেন, ‘এমন সময় বাইরের দু’জন ভদ্রলোক— তাঁরাও দেশের কাজই করে বেড়ান— এসে উপস্থিত হয়েছেন আশ্রমের ভেতরে, যেখানে মেয়েদের পড়াচ্ছিলেন মাস্টারমশাই। যেই না তাঁরা এসেছেন, অমনি মেয়েরা সব সামলে-সুমলে বসতে শুরু করল। মাথায় কাপড় তুলল। এখন আর তাদের দেখলে কেউ বলবে না, একটু আগেই তারা কেমন বিহ্বল হয়ে, তন্ময় হয়ে, একমনে কেবল দেশের কথাই শুনে চলেছিল! কাপড়চোপড়ের খেয়াল ছিল না। ছিল শুধু দেশ। দেহ ছিল না। দেহবোধ ছিল না। ছিল শুধু কয়েকজন মা আর দেশমাতৃকা।’  
সম্মোহিতের মতো অতুলের দিকে তাকিয়ে রইলেন ভজহরি। তিনি বুঝতে পেরেছেন, অতুলচন্দ্র ঠিক কী বলতে চাইছেন। 
‘বুঝলে ভজহরি, তেমন স্তরে পৌঁছতে হয়— যেখানে লাজুক বাঙালি মেয়েরাও তোমাকে দেখলে আর লজ্জা পাবে না। তোমাকে তারা পুরুষ হিসেবে গণ্যই করবে না। শুধু গুরু হিসেবে গণ্য করবে। তুমি তাদের কাছে আর কোনো মানুষ নও। জলজ্যান্ত দেশ। তখন আর তারা তোমার সামনে কাপড় সামলানোর দরকার মনে করবে না। অথচ যেই অন্য দু’জন পুরুষ এসে দাঁড়িয়েছেন, অমনি তাদের নারীত্বের বোধ ফিরে এল। কেন বল তো? কারণ সেই দুই ভদ্রলোক নারী-পুরুষ ভেদের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। তাঁরাও দেশসেবক। কিন্তু ব্যাসদেব। আর আমাদের মাস্টারমশাই হলেন...।’
‘সাক্ষাৎ শুকদেব। বুঝেছি, দাদা। এ জিনিস সাধনায় হয় না। এ নিয়ে জন্মাতে হয়।’ বিহ্বল ভঙ্গিতে বললেন ভজহরি।
এবার অতুল যখন কথা বললেন, তাঁর কণ্ঠে যেন অশ্রুজলের আভাস পাওয়া গেল, ‘জানো ভজহরি, শাস্ত্র বলে, শুকদেব যখন জন্মেছিলেন, তখন মায়াদেবী নাকি মুহূর্তের জন্য তাঁর মায়া সংবরণ করেছিলেন। তাই শুকদেব নির্মোহ, নির্মায়িক হয়ে জন্মেছিলেন। আমি শুধু ভাবি— আমাদের মাস্টারমশাই তো নির্মোহ বা নির্মায়িক নন! দেশকে নিয়ে তাঁর মায়ার অন্ত নেই! দেশকে ভালোবাসাও তো এক ধরনের মোহ! সেই মোহ যে কতটা পবিত্র, তা মাস্টারমশাইকে দেখলে বুঝতে পারি। ‌আর পেরেছিল সেই মেয়েরা, তার কাছ থেকে দেশের কথা শুনতে শুনতে যাদের দেহবোধ লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।’ 
ভজহরি মাহাতোর বুঝতে অসুবিধা হল না, বহু কষ্টে চোখের জল আটকে রেখেছেন মানভূম কেশরী অতুলচন্দ্র ঘোষ। আজ সিংহের চোখেও জল এসে গেছে। ‌
এমন সময় শোনা গেল দ্রুত পায়ের শব্দ। একসঙ্গে অনেক মানুষ যেন হেঁটে আসছেন এই দিকে। 
ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ালেন অতুলচন্দ্র, তারপর ভিতরের দিকে মুখ করে জোর গলায় বলে উঠলেন, ‘কই গো, তোমরা সবাই কোথায় গেলে? উনি যে এসে পড়লেন!’ 
ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন লাবণ্যপ্রভা এবং অন্যেরা। তাঁদের হাতে বরণডালা, যদিও ফুল আর চন্দন ছাড়া তাতে আর বিশেষ কোনও উপকরণ নেই। শিল্পাশ্রমের আর্থিক অবস্থা যা, তাতে এর বেশি জোগাড় করে ওঠা সম্ভব হয়নি। 
অবশ্য এই মুহূর্তে আশ্রমের বাখারির গেট খুলে যিনি ভিতরে ঢুকলেন, তাঁর পরনেও হাঁটু পর্যন্ত খদ্দরের ধুতি, ঊর্ধ্বাঙ্গে শুধু একটা চাদর, হাতে লাঠি। চোখের চশমাটারও অবস্থা ভালো নয়। 
শুধু সেই চশমার আড়ালে থাকা চোখ দু’টিতে এমন এক অদম্য প্রাণশক্তি জ্বলে রয়েছে, যেদিকে তাকালেই বোঝা যায়— ভয় দেখিয়ে এই শীর্ণ বৃদ্ধ মানুষটাকে বশে আনা অসম্ভব।  
দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করছে সকলে। অতুলবাবু প্রণাম করে উঠে দাঁড়াতেই মৃদু গলায় তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মাস্টারজি কোন ঘরে আছেন? এখন কেমন আছেন তিনি?’
ঋষি নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্তকে দেখতে আজ পুরুলিয়ার শিল্পাশ্রমে ছুটে এসেছেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ