Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোনারপুরে সাউন্ড বক্স বন্ধ করা নিয়ে বচসা, যুবককে কুপিয়ে খুন, ধৃত দম্পতি

কালীপুজো উপলক্ষ্যে সাউন্ড বক্স বাজছিল মণ্ডপে। তা বন্ধ করে দেওয়ায় বচসার জেরে খুন হতে হল যুবককে।

সোনারপুরে সাউন্ড বক্স বন্ধ করা নিয়ে বচসা, যুবককে কুপিয়ে খুন, ধৃত দম্পতি
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কালীপুজো উপলক্ষ্যে সাউন্ড বক্স বাজছিল মণ্ডপে। তা বন্ধ করে দেওয়ায় বচসার জেরে খুন হতে হল যুবককে।  নাম সনাতন নস্কর (৩২)। ঘটনার জেরে প্রতিবেশী দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার কুষ্টিয়ায়। অভিযুক্তরা হল পিন্টু সাহা ও তাঁর স্ত্রী রেখা সাহা। সনাতন কলকাতার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পিয়নের কাজ করতেন। 

Advertisement

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাড়ায় কালীপুজোর মণ্ডপে বক্স বাজিয়ে গান শুনছিলেন সনাতন। কিছুটা দূরে কয়েকজন বসে মদ্যপান করছিলেন। রাত ১১টা বাজতেই সনাতন গান বন্ধ করে বাড়ি চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী পিন্টু ওই যুবকের বাড়ি যান। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। শুরু হয় দুপক্ষের কথা কাটাকাটি। সনাতনের মা সুলতা নস্কর পিন্টুর কাছে জানতে চান, এত রাতে কেন তারা এসেছে। বাড়ি চলে যেতে বলে। অভিযোগ, কোনও উত্তর না দিয়ে ঝগড়া শুরু করেন পিন্টু। এক কথা দু’কথায় হঠাৎ তিনি সুলতাদেবীকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। সেটা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সনাতন। রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে পিন্টুর উপর হামলা চালান তিনি। কিন্তু রেখা সামনে চলে আসায় ছুরিতে তাঁর হাত জখম হয়। তখনই পিন্টু ও সনাতনের মধ্যে শুরু হয় মারপিট। রাস্তায় বেরিয়ে চলে গোলমাল। পিন্টু ছুরি ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন সনাতনকে। গুরুতর আহত অবস্থায় কালিকাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পিন্টু তাঁর আহত স্ত্রীকেও সেই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সনাতনের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেই সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। তখনই পুলিশ দুজনকে ধরে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিন্টু ও তাঁর কিছু আত্মীয় ওই গান শুনতে শুনতে এলাকায় মদ্যপান করছিলেন। হঠাৎ সনাতন বক্স বন্ধ করে দেওয়ায় মারমুখী হয়ে ওঠেন পিন্টু। সোজা হাজির হন সনাতনের বাড়িতে। মৃতের মা সুলতা নস্কর বলেন, আমার ছেলে বেশি রাত পর্যন্ত বক্স না বাজিয়ে সেটা বন্ধ করে দেয়। কারণ পাশের বাড়িতে একজন অসুস্থ। তাঁর সমস্যা হচ্ছিল। তাতেই পিন্টু এবং ওর স্ত্রী রেগে যায়। পিন্টু ছুরি মেরে খুন করেছে আমার ছেলেকে। ওর কঠিন শাস্তির দাবি করছি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃতের পরিবারের তরফ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়। যে রাস্তায় এই খুনের ঘটনা ঘটে, সেখান থেকে বুধবার রাতেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 
মৃতের মামী রেবতী মণ্ডল বলেন, কয়েকদিন ধরেই বক্স বাজানো হচ্ছিল। কিন্তু বেশি রাত পর্যন্ত সেটা বাজানো হয়নি। বুধবার রাতেও ১১টার আগেই বন্ধ হয়েছে বক্স। তারপর শুনলাম পিন্টু ও এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও প্রতিবেশীদের দাবি, পিন্টুর শ্যালক ও তাঁর স্ত্রী এই ঘটনায় যুক্ত। তবে মারামারি হয়েছে পিন্টু ও সনাতনের মধ্যেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ