মুম্বই: ‘ক্রিকেট ইজ এভরিওয়ান’স গেম!’ বিশ্বকাপ জড়িয়ে শেষরাতে ঘুমোতে যাওয়া হরমনপ্রীত কাউরের টি-শার্ট অন্তত সেটাই বলছে। তাতে আ জেন্টলম্যান’স শব্দদুটো কাটা। বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেনের বার্তা পরিষ্কার, ব্যাট-বলের খেলাকে পুরুষদের একাধিপত্য থেকে ছিনিয়ে এনে সবার করে তুলতে সফল তাঁরা। লিঙ্গবৈষম্যের দিন শেষ। ক্রিকেটে সমানাধিকারের ঘোষণাই প্রতিফলিত তাঁর টি-শার্টে। ট্রফি আঁকড়ে স্বস্তির ঘুমের মধ্যেও ধরা পড়ল দেশের মহিলা ক্রিকেটকে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনে বসানোর তৃপ্তি।
সোমবারের সকালটা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের প্রমীলা ব্রিগেডের কাছে অন্যরকম। বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে প্রথমবার সূর্যোদয়ের আলোয় উদ্ভাসিত চোখ-মুখ। আনন্দ, উৎসবের রেশ টাটকা। হরমনপ্রীত তো টিম হোটেলের ঘরে কফি পান করলেন ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে। রবিবার রাতে আবেগের ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। দীপ্তি শর্মার বলে নাদিনে ডি ক্লার্কের ক্যাচ পিছনে দৌড়ে নেওয়ার পর দু’হাত ছড়িয়ে প্রায় সারা মাঠ চক্কর দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন কাউর। এদেশের মহিলা ক্রিকেটে যা ইতিহাস সৃষ্টির মুহূর্ত। তারপর উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া। রাতভর তৈরি হয়েছে অজস্র সোনালি ফ্রেম।
ট্রফি নিয়ে একপ্রস্থ সেলিব্রেশনের পর ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের বাইশ গজের কাছে যায় পুরো টিম। আলো-আঁধারিতে ঘেরা পিচের কাছে হাডল করে দাঁড়ান সকলে। তারপর থিমসং— ‘রহেগা সব সে উপর, হামারা তিরঙ্গা, হাম হ্যায় টিম ইন্ডিয়া, হাম হ্যায় টিম ইন্ডিয়া।’ গাইতে গাইতে সবাই তাল দেওয়ার ভঙ্গিতে চাপড় মারতে থাকেন পিচে। কোচ অমল মুজুমদারের জোরালো কণ্ঠে শোনা যায়, ‘সাথ মে চলেঙ্গে, সাথ মে উঠেঙ্গে, সাথ মে জিতেঙ্গে।’
সত্যিই তাই। লিগ পর্বে হারের হ্যাটট্রিকের পরও টিম স্পিরিটে ভরসা রেখে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন হরমনপ্রীত ব্রিগেডের। আর তাই ট্রফি নেওয়ার সময় মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া প্রতীকা রাওয়ালকেও। সেমি-ফাইনাল, ফাইনালে না খেললেও তিনি তো দলেরই অঙ্গ! হুইল চেয়ারে বসে চোখের জলে সতীর্থদের যেন কুর্নিশ জানালেন প্রতীকা। অনেক ক্রিকেটারের পরিবারের সদস্য এসেছিলেন স্টেডিয়ামে। বিজয়োৎসবে শামিল হতে তাঁরাও ঢুকে পড়েন মাঠে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ছবি তোলেন হরমনপ্রীত। ট্রফি নিয়ে ড্রেসিং-রুমে ফেরার পর শুরু হয় সেলফির হিড়িক। ট্রফি হাতে ছবি তোলেন ক্রিকেটাররা। স্টেডিয়ামের পাশেই টিম হোটেল। সেখানে যাওয়ার পথে ঢাক-ঢোলের তালে শরীর দোলান দীপ্তি-রিচারা। হরমনপ্রীতও যোগ দেন তাতে। টিম হোটেলে ফেরার পরও চলে উৎসব। বিশ্বকাপ জেতার জন্য আইসিসি’র পুরস্কারমূল্য হিসেবে প্রায় ৪০ কোটি পেয়েছেন হরমনপ্রীতরা, যা গতবারের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। এছাড়া বিশ্বজয়ের উপহার স্বরূপ বিসিসিআই দিয়েছে ৫১ কোটি টাকা। সাফল্যের উপহার হিসেবে গুজরাতের এক ব্যবসায়ী প্রত্যেক ক্রিকেটারকে হিরের গয়না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ‘ভিকট্রি প্যারেড’ হচ্ছে না। ৫ নভেম্বর অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন বিশ্বজয়ীরা।