শান্তনু দত্তগুপ্ত: এমনই এক রূপকথার অপেক্ষায় ছিল ভারত। এই রূপকথায় কোনও রাজপুত্র নেই। প্রত্যেকেই রাজকন্যে। ভুল হল। প্রত্যেকে রানি। কোন প্রদেশ? কোন ধর্ম? কোন জাত? এইসব প্রশ্ন আজ অবাঞ্ছিত। এরা প্রত্যেকেই সদস্য টিম ইন্ডিয়ার। নীলরঙা জার্সিগুলো দেখে কেউ মনে করেনি রোহিত বা বিরাটের কথা। যাদবপুরের মোড়ে যে ছেলেটি এক বুক উৎকণ্ঠা নিয়ে এই মুহূর্তটার অপেক্ষায় ছিল, তার গায়ের জার্সির পিছনেও লেখা ৫ নম্বর। নাম? জেমাইমা। চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচের পাশেও ইতিউতি নজরে এসেছে স্মৃতি, দীপ্তি বা কাউর। দিল্লির রাজপথে বাবার কাঁধে চেপে ছোট্ট যে ছেলেটা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে, তার হাতে বাংলার রিচার ছবি।
এই রূপকথার অপেক্ষাতেই তো ছিল ভারত!
এখানে খেলাটাই বড়। সাফল্যটাই শেষ কথা। ছেলে বা মেয়ে নয়। এ এমন রবিবার... যেদিন বাবা-মেয়ে একসঙ্গে খেলা দেখতে বসেছে। স্মৃতি মান্ধানার অফসাইড চিরে দেওয়া টাইমিং দেখে বাবা বলেছে মেয়েকে, ‘দেখেছিস! ঠিক যেন সৌরভ।’
এই রূপকথাই তো লিখতে চেয়েছিল কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারি।
হরমনপ্রীতরা দেখিয়ে গেলেন, সাফল্য দলের। ব্যক্তির নয়। এই দল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উচ্ছ্বসিত হয় না। সেঞ্চুরি করলে ব্যাট তোলে না। শেফালিরা আটের ঘরে আউট হয়ে গেলে বিরক্ত হন... শতরান মিস করার জন্য নয়। দলকে আরও একটু বাড়তি দিয়ে যেতে না পারার জন্য। শিক্ষা দিয়ে গেল এই ‘উওমেন ইন ব্লু’। ঝুলন গোস্বামী, মিতালি রাজরা একটা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আমরাও পারি। সেই স্বপ্নকেই বাস্তব রূপ দিয়ে গেলেন স্মৃতি-হরমনপ্রীতরা। দেখালেন, আমরাই পারি। বিভাজনের রাজনীতির বিষবাষ্পের মধ্যে দাঁড়িয়েই বার্তা দিলেন গোটা ভারতকে—সময় এসেছে। বদলের। ভাবনাচিন্তায় বদল। মানসিকতায় বদল। নারী সমাজ শুধু অন্দরমহলের শোভাবর্ধক নয়। শুধু ভোট ব্যাংক নয়।
এবার অপেক্ষা সেই রূপকথারও।