Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নৌ-যুদ্ধের কামান, জোড়াবাগানে অনাদরে পড়ে ইংরেজ আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন

প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন কামান। ইংরেজ নৌ সেনা তা ব্যবহার করত যুদ্ধে। পরে যুদ্ধ থামে। কামান আর কোনো কাজে আসেনি।

নৌ-যুদ্ধের কামান, জোড়াবাগানে অনাদরে পড়ে ইংরেজ আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন কামান। ইংরেজ নৌ সেনা তা ব্যবহার করত যুদ্ধে।  পরে যুদ্ধ থামে। কামান আর কোনো কাজে আসেনি। সেগুলি ফেলে রাখা হয়েছিল। কোনোভাবে মাটির নীচে চাপা পড়ে। পরে খুঁড়ে বের করে সাজিয়ে রাখা হয় কলকাতার রাস্তায়। উত্তর কলকাতায় জোড়াবাগান থানার ফুটপাত ছাড়িয়ে একটু এগলে রাস্তার ধারে রয়েছে বেদী। সেখানে ইংরেজদের যুদ্ধ-ইতিহাসের সাক্ষী করে রাখা কামান দু’টি। মাটি খুঁড়ে কামান বের করার পর ঢাক‑ঢোল পিটিয়ে তা উদ্ধোধন করেছিল কলকাতা পুরসভা, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে রাস্তার ধারে পড়ে রয়েছে কামান দু’টি। দেখভালে চরম অনাদর। চারধারে ডাঁই হয়ে রয়েছে আবর্জনা। ভনভন করছে মাছি। চারদিকজুড়ে আবর্জনার দুর্গন্ধ। কামানের আশপাশে পুরনো আসবাব ফেলে রাখা। আগাছা জন্মেছে। ফুটপাথের ধারে কামানের গা ঘেঁষে অনুষ্ঠানের মণ্ডপ বাঁধা হয়। জঞ্জাল ফেলা হয় ঐতিহাসিক কামানের পাশেই। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য‌, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস নষ্ট হচ্ছে। সরকার বাংলার ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নিক। পদক্ষেপ করুক।’ স্থানীয়রা জানালেন, ২০১০ সালে মেয়ো হাসপাতালের সামনে জলের পাইপলাইন বসানোর কাজ হয়েছিল। তখন মাটি খোঁড়ার সময় কামান দু’টির হদিশ পাওয়া যায়। দু’টি উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের জন্য জোড়াবাগানে রাস্তার পাশে বসানো হয়। তবে চরম অনাদরেই পড়েছিল সে দু’টি। পরে আবার ঠিকঠাক করে পুরসভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা উদ্বোধন করে। অনেকের বক্তব্য, যুদ্ধে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার পর অকেজো কামান দু’টি একসময় বড়ো নৌকা বাঁধার কাজে আসত। পরে মাটির নীচে চাপা পড়ে যায়। দু’টির মধ্যে একটি কামান তৈরি হয়েছিল ১৭৮৭ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে। অন্যটি তৈরি হয় ১৭৬০ থেকে ১৭৮৬ সালের মধ্যে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নোংরা, পাখির বিষ্ঠার হাত থেকে বাঁচাতে কামান দু’টির মাথায় শেড তৈরি করা জরুরি। তা হয়নি বলে ঐতিহাসিক সামগ্রীর  গায়ে জমাট ধুলোবালি। গোয়াবাগানের বাসিন্দা সমীরণ পাল বলেন, ‘কামানের চারধারে আবর্জনা। দেখে খুবই খারাপ লাগে।’ রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা প্রবীণ সুজন প্রামাণিক বলেন, ‘ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে সাফসুতরো শুরু হোক।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ