নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোবাইল ফোনের সাধারণ এসএমএস-ও আজ প্রায় বাতিলের খাতায়। হোয়াটসঅ্যাপের ব্লু-টিক এখন জানিয়ে দেয়, বার্তা পৌঁছে গিয়েছে গন্তব্যে। ডিজিটাল আলাপচারিতার যুগে তিরিশ হাজার ফুট উপরে মেঘের দেশে ভেসে ভেসে চিঠি লেখার কথা কি একালে ভাবতে পারে কেউ? এমনই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ডাকবিভাগ। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে প্লেনে বসে প্রিয়জনকে চিঠি লিখেছে নতুন প্রজন্ম। কেউ হয়ত প্রিয় মানুষের জন্য মন কেমনের কথা প্রথমবার নিজের হাতে লিখে রেখেছে মাঝ আকাশে। দীপাবলির আগে আবারও সেই সুযোগ করে দিতে চায় ইন্ডিয়া পোস্ট।
গত ১২ অক্টোবর ছিল ফিলাটেলি ডে, অর্থাৎ ডাকটিকিট দিবস। ওই দিনটিকে সামনে রেখে ডাকবিভাগ এবং একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা যৌথভাবে এক অভিনব উদ্যোগ নেয়, যার নাম ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। বাছাই করা কিছু বিমানে যাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ডিজিটাল ডিটক্স কিট, তার ভিতরে পোস্টকার্ড। বলা হয়, কিছুক্ষণের জন্য ফোনটা সরিয়ে রাখুন, মনের কথা প্রিয় মানুষকে লিখুন। তিরিশ হাজার ফুট উপরে বসে যাত্রীরা মুঠোফোনের স্ক্রিনের বদলে কলম ধরেন। কেউ মাকে লেখেন, কেউ প্রিয় বন্ধুকে, কেউ সন্তানকে। পোস্টকার্ডগুলিতে ছিল ছয় শহরের বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কের ছবি— বেঙ্গালুরু, দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতা। এই ছয় শহরের মধ্যে চলাচল করা ফ্লাইটে এই উদ্যোগ চলে। লেখা শেষে বিমান থেকে নেমেই এয়ারপোর্টে রাখা ছিল ইন্ডিয়া পোস্টের বিশেষ লাল লেটারবক্স। সেখানেই চিঠি ফেলে দিয়েছিলেন যাত্রীরা। কোথাও আবার সেই চিঠি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানোর জন্য হাতে হাতে গ্রহণও করেছিলেন ডাককর্মীরা।
ডাকবিভাগ সেসব চিঠি পৌঁছে দিয়েছে প্রাপকের বাড়িতে। এক যাত্রী লিখেছেন, ‘ব্লু-টিকের জমানায় তিরিশ হাজার ফুট উপরে পোস্টকার্ডে লিখলাম। মেঘ আর নিস্তব্ধতার মাঝে মনে হল, প্রিয় মানুষদের জন্য ভাবনা কাগজে লেখার মতো শান্তি আর কিছুতে নেই।’
ডাক বিভাগ বলছে, উদ্দেশ্য একটাই— নতুন প্রজন্মকে আবার হাতে লেখা চিঠির আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়া। স্ক্রল, নোটিফিকেশন, ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাইয়ের ভিড়ে একটা চিঠি যে অনেক বেশি ব্যক্তিগত, অনেক বেশি আন্তরিক— সেটাই মনে করিয়ে দেওয়া। ডাকবিভাগের ফিলাটেলি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর তুষারকাান্তি চৌধুরী বলেন, পুজোর আগে ১২ অক্টোবর কলকাতা থেকে চেন্নাই ও দিল্লিগামী বিমানে এবং মুম্বই থেকে কলকাতাগামী বিমানে আমরা এই অভিনব উদ্যেগের আয়োজন করেছিলাম। বহু মানুষ তাঁর পছন্দের মানুষকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিঠিতে। মনের কথা লিখে রেখেছেন নিভৃতে। অত্যন্ত ভালো সাড়া পেয়েছি আমরা। আগামী ৬ নভেম্বর দীপাবলির আগে আবারও এমন সুযোগ পাবেন যাত্রীরা, জানিয়েছেন তুষারবাবু। সম্পূর্ণ নিখরচায় ফের মনের কথা মহাশূন্য থেকে লিখে পাঠানোর সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।



