সুমন তেওয়ারি, কাঁকসা: কাঁকসা ব্লকের বাঁশকোপা দুর্গা মন্দির। পুরো গ্রামের এই একমাত্র দুর্গামন্দির ঘিরে মানুষের আবেগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মন্দির চত্বরেই প্রসাদ বিতরণ হয়। সেই দুর্গা মন্দিরেই নতুন শেড হয়েছে। এখন মন্দির চত্বর ঢালাইয়ের কাজ চলছে। খালি গায়েই আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের কাজের তদারকি করছেন অবিনাশ দাস। তিনি বলেন, বিধায়কের জন্য বহুদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। মানুষ ওঁর উন্নয়ন মনে রাখবে।
গ্রামে একটি হরি মন্দিরও রয়েছে। তাঁর সামনেই বাড়ি মিনতি রায়ের। তিনি বলেন, হরি মন্দিরের সামনে শেড করে দেওয়ায় খুব ভালো হয়েছে। আমরাও গিয়ে বসতে পারছি। তিনি আরও বলেন, দিদি আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন। আমি পাকা বাড়ি পাইনি, অন্যদের হচ্ছে। আমার আশা দিদি আমাদেরও পাকা বাড়ি করে দেবে। উনি আমাদের দেখছেন আমরা ওঁকে দেখব।
বাঁশকোপা মোড়টি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে। জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাও সেখানে। সেখান থেকে বাঁশকোপা গ্রাম অনেকটা রাস্তা। এখন নতুন নতুন বসতি হলেও বেশিরভাগ অংশই ফাঁকা। রাস্তার অবস্থা জীর্ণ ছিল। এখন ঝাঁ চকচকে পিচের রাস্তা। গ্রামবাসীর দাবি, পঞ্চায়েত মন্ত্রী হিসাবে এই রাস্তাটিও করে দিয়েছেন প্রদীপ মজুমদার। বাঁশকোপা মোড়ে প্রচারে বেরনো প্রার্থীকে বরণ করে নেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আয়োজন হয়েছিল বর্ণাঢ্য র্যালির। বাজনার পাশাপাশি একাধিক অটো সামনে রেখে প্রার্থী শুরু করলেন পদযাত্রা। বাঁশকোপা মোড়ের ঘোষপাড়ার কাছে বর্ষীয়ান প্রদীপবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন ঝর্না ঘোষ। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কেউ বাংলার মেয়েদের হাতে টাকা দেওয়ার কথা ভাবেনি। উনি দিদির সৈনিক। কিছুটা পায়ে হেঁটে অটোয় চাপলেন প্রদীপবাবু। তাঁকে ঘিরে কর্মীদের পদযাত্রা এগিয়ে গেল বাঁশকোপা গ্রামের উদ্দেশ্যে। গ্রামে নামতেই প্রার্থীকে ঘিরে প্রবল উচ্ছ্বাস। বাড়ির সামনে তাঁকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে বাসিন্দারা। তিনিও সবার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে এগিয়ে চলেছেন। রায়পাড়ায় এসে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন অসীম রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে, বউমা দু’ জনই চিকিৎসক, আমেরিকায় থাকে। গ্রামের মানুষের চাহিদা খুব অল্প। রাস্তাঘাট ভালো করা, একটু আলোর ব্যবস্থা করা। প্রদীপবাবু সেই কাজ করেছেন। আকুড়ে পাড়া পেরিয়ে আরও এগিয়ে চললেন তিনি। কাঠফাটা রোদ, একটি সাদা টুপির ভরসাতেই হাঁটছেন। কেউ এসে প্রণাম করছেন, কেউ আবার মিষ্টির প্লেট, শরবৎ নিয়ে বাড়ির দরজায় হাজির। কর্মীদের উদ্দীপনার পাশাপাশি ধরা পড়ল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফুর্ততা।
এদিন তাঁর প্রচার ছিল কাঁকসা ব্লকের বিরুডিহা এলাকাতেও। বাড়ি সামনে ঘরের পোশাক পরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কৃষ্ণা কর। প্রদীপবাবুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাড়ির পোশাকেই তিনি মিছিলেন হাটতে শুরু করলেন। অবাঙালি মীনা মণ্ডল বলেন, বিজেপি বলছে দেব, আর দিদি আমাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে। আমরাও দিদির পাশেই থাকব। পথশ্রী, রাস্তাশ্রী প্রকল্পে গ্রামে দেখা মিলছে নতুন নতুন ঢালাই রাস্তা। আর রাস্তায় পড়ে রয়েছে বালি, ইট। নির্মাণ সামগ্রী কেন, এলাকাবাসী জানান, বাংলার বাড়ি হচ্ছে গরিব মানুষের। অলিতে গলিতে উন্নয়ন স্পষ্ট। সেই নতুন রাস্তা দিয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হেঁটে চলেছেন পাঁচ বছর রাজ্যের একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো প্রদীপ।