Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অনেক হয়েছে, এবার খোলনলচে বদল হোক

এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার! বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুরপ্রীতদের পরাজয়ে এতটুকুও বিস্মিত নই।

অনেক হয়েছে, এবার খোলনলচে বদল হোক
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেবজিৎ ঘোষ: এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার! বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুরপ্রীতদের পরাজয়ে এতটুকুও বিস্মিত নই। বরং প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে লজ্জিত। পদ্মাপাড়ে খালিদ ব্রিগেডের সলিলসমাধি কার্যত অশনি সংকেত। পিছতে পিছতে ভারতের ফিফা র‌্যাঙ্কিং এখন ১৪২। যেভাবে চলছে ডাবল সেঞ্চুরি নিশ্চিত। তাতে অবশ্য ফেডারেশনের কিছু যায় আসে না। ভারতীয় ফুটবলকে প্রায় লাটে তুলেছেন তাঁরা। অনেক হয়েছে। অন্তর্জলি যাত্রার আগে গদি ছাড়ুন। না হলে ফুটবলের জায়গা হবে মিউজিয়ামে।

Advertisement

ম্যাচ জিততে তাগিদ প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা দরকার। ব্লু টাইগার্স সবকিছুর বাইরে। স্রেফ দৌড়ে আকাশ মিশ্র, সুরেশদের নাভিশ্বাস তুলে দিল বাংলাদেশ। খালিদের দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো ফিটই নয়। আইএসএল অনিশ্চিত। বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্র্যাকটিস বন্ধ। শোনা যাচ্ছে, বেতন পাচ্ছে না অনেকেই। শেষ পাঁচ মাসে ক’টা ম্যাচ খেলেছে ফুটবলাররা? শুধু অনুশীলন করে ম্যাচ ফিট হওয়া যায় না। পাশাপাশি অন্য সমস্যাও রয়েছে। বাংলাদেশের গোটা দলকে লিড করল হামজা চৌধুরি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজাই দলের চালিকাশক্তি। ওর মানের কোনও ফুটবলার এই ভারতীয় দলে নেই। কোচ খালিদও ডাহা ফেল। নিজের হাতে দল বেছেছে মুম্বইকর। দায় তো ওকেই নিতে হবে। খালিদের স্ট্র্যাটেজি বড্ড একঘেঁয়ে। রক্ষণ জমাট করে হয়তো কোনওক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র করা যায়। কিন্তু আগে গোল হজম করলেই মুশকিল। তখন খোলস ছেড়ে বেরনোই একমাত্র উপায়। বিপক্ষ রক্ষণে ফাটল ধরাতে পাসিং ফুটবলের পাশাপাশি উইং থেকে আক্রমণ তুলে আনা জরুরি। খালিদের কোচিংয়ে সেসব অদৃশ্য। বিপক্ষ সহজেই তাঁর প্ল্যানিং ধরে ফেলছে। পাশাপাশি স্কোরারের অভাবও প্রকট। সুহেল, ডেভিডের মতো ফুটবলারকে এবার তৈরি করা উচিত। আমার ধারণা, সময় পেলে ওরা হতাশ করবে না। বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ঘটা করে রায়ান উইলিয়ামসের খবর প্রচারিত হল। অথচ প্রয়োজনীয় কাগজ না আসায় তাকে খেলানো সম্ভব হয়নি। ফেডারেশন কর্তারা আগেই ক্যালেন্ডার জানতেন। তা সত্ত্বেও আরও আগে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন? আন্তর্জাতিক মঞ্চে এসব ছেলেমানুষির কোনও জায়গা নেই। আসলে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন রাজনীতির আখড়া। রায়ানের ছাড়পত্র নিয়ে ভাবার সময় নেই তাদের।
ভারতীয় ফুটবলের কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে আবারও শূন্য থেকে শুরু করা উচিত। দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে। এমন অবস্থায় খোলনলচে বদলানোই একমাত্র উপায়। গুরপ্রীত, ছাংতে, সন্দেশদের সেরা সময় অতীত। ওদের আর নতুন করে দেওয়ার মতো কিছু নেই। ব্যক্তিগত মত, অনূর্ধ্ব-২৩ কিংবা অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে ঢেলে সাজানো হোক। নৌশাদ মুসা, বিবিয়ানোরা দারুণ কাজ করছে। সবুরে মেওয়া ফলবে। ওদের অন্তত দু’বছর সময় দেওয়া হোক। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগলে যুব দল নিশ্চয়ই সাফল্য পাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ