Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নানুরে মাটি খুঁড়তেই বেরল সুদীর্ঘ শিবলিঙ্গ, ভিড় উৎসুক মানুষের

নানুরে মাটি খুঁড়তেই বেরল সুদীর্ঘ শিবলিঙ্গ, ভিড় উৎসুক মানুষের
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূমের নানুর থানার সাকুলিপুরে একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় শিবমন্দিরের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ‌ চলছিল। তার চারপাশে মাটি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে এক বিশাল শিবলিঙ্গ। সেটি মাটির উপরে মাত্র এক ফুট বেরিয়েছিল। ‌কিন্তু খননের কাজ করতে গিয়ে মাটির নীচে ওই শিবলিঙ্গের শেষ পাচ্ছিলেন না খননকারীরা। ওই শিবলিঙ্গের গভীরতা অসীম ও অনন্ত মনে করে অনাদি শিবলিঙ্গের ক্রোধের প্রকোপের আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি খননকাজ বন্ধ করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন অন্যান্য এলাকার মানুষজন। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্র জানা গিয়েছে, সাকুলিপুর গ্রামের মন্দিরের শিব সাকুলেশ্বর নামে পরিচিত। এই নাম থেকেই গ্রামের নামকরণ হয়। একটা সময়ে মন্দির ও সংলগ্ন এলাকা তিলি সম্প্রদায়ের অধীনে ছিল। সেই সময়ে এই মন্দিরকে ঘিরে শিবের পুজো উপলক্ষ্যে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পুজো ও মেলা আয়োজন করা হতো। স্থানীয়দের মতে, এই মন্দিরটি কয়েক শতাব্দী পুরনো। মন্দিরের স্থাপত্যে প্রাচীন বাংলার ছাপ স্পষ্ট। গ্রামবাসীদের দাবি, এই স্বয়ম্ভূ অনাদিলিঙ্গ শিবমন্দির বিশ্বের অন্যান্য বিখ্যাত শৈবক্ষেত্রগুলির মতোই পবিত্র। কিন্তু প্রচারের অভাবে এটি এখন লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গিয়েছে। শোনা যায়,  কালাপাহাড়ের আঘাতের চিহ্ন নাকি আজও এই শিবলিঙ্গের গায়ে স্পষ্ট। এলাকার প্রবীন বাসিন্দা মানিক কারক বলেন, মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার তিলি সম্প্রদায়ের হলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সেখানে বসবাস শুরু করে। ওই এলাকার বাসিন্দা মুন্সি গোলাম গাউস জানান, তাঁর পূর্বপুরুষরা পারস্য থেকে এসে এই সম্পত্তি কিনেছিলেন। মন্দির রক্ষায় তাঁদেরও অবদান রয়েছে। বর্তমানে মন্দিরটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের দ্বারা পরিবেষ্টিত। পাশেই মসজিদ ও কবরস্থান রয়েছে। তবে আজান ও মন্দিরের ঘণ্টার ধ্বনি এখানে সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করেছে। একদিকে ঐতিহাসিক মহিষপুকুর, অন্যদিকে তিলিপুকুর আজও তিলি সম্প্রদায়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে। তার মাঝেই সাকুলেশ্বর শিবের লিঙ্গ আবিষ্কার হওয়ায় এলাকায় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় উচ্ছ্বসিত শিবমন্দিরের সেবায়েত সন্তোষ বটব্যাল। তিনি বলেন, বংশ পরম্পরায় এই মন্দিরে আমরা পুজো করছি। ‌মন্দিরটি ভগ্নপ্রায় হওয়ার কারণে সংস্কার শুরু হয়েছিল। 
কিন্তু, মাটি খুঁড়তেই অদ্ভুত ঘটনা সাক্ষী হলাম। শিবলিঙ্গের তল মিলছিল না। ছোটবেলায় শুনেছিলাম এই সাকুলেশ্বর হলেন পাতালেশ্বর ভৈরবনাথ তথা অনাদিলিঙ্গ। আজ তা প্রত্যক্ষ করলাম। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে এই মন্দিরে পুজো করতে পেরেছি। ইতিহাসবিদ তথা সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক পার্থশঙ্খ মজুমদার বলেন, এই গ্রামের আদি নাম ছিল কিসমত সাখুলিপুর। ধর্মমঙ্গলের সঙ্গে এই জনপদের যোগ ছিল। একাদশ শতক থেকে এই এলাকায় শিবের পুজো হতো। 
খনন কাজের ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, বারবার সংস্কার হওয়ায় লিঙ্গটি চাপা পড়েছিল। মাটি সরানোর ফলেই পুরনো আকৃতি সামনে এসেছে। এটা সংস্কারের নামে নষ্ট না করলেই ভালো। বরং গবেষণার জন্য সংরক্ষণ করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ