নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসেই গেল ‘মাহেন্দ্রক্ষণ’! যার জন্য বুধবার থেকে যাদবপুরে বেদম তোড়জোড়। আজ, শুক্রবার রাখির দিন রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিতে হাজার হাজার মানুষ পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাইবেন। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তার জন্য সুলেখা থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার একপাশে ‘র্যাম্প’ তৈরি হচ্ছে। পুলিশে ছয়লাপ যাদবপুর চত্বর। সুলেখা থেকে যাদবপুর থানাগামী রাস্তার একপাশ দিয়ে ধীর গতিতে গাড়ি এগচ্ছে। আর এইটবি বাস স্ট্যান্ডের সামনে গোটা রাস্তাই বরাদ্দ হয়েছে র্যাম্পের জন্য। বুধবার বিকালের তুলনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যাদবপুরজুড়ে ভোগান্তি ক্রমবর্ধমান। আজ, শুক্রবার কী হবে? স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রীরা বিকল্প যাতায়াতের পথ খুঁজতে শুরু করেছেন।
এভাবেই রাষ্ট্রবাদের পাঠের ব্যবস্থা করেছে বাংলার বিজেপি সরকার। কারণ, গেরুয়া তাণ্ডবের পর মুখ্যমন্ত্রী ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই একটি ফ্লেক্স প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিজ্ঞেস করছেন, ‘যাদবপুরে কি চলছে?’ (এই ‘কি’, ‘কী’ হওয়ার কথা তাও বানান অপরিবর্তিত রাখা হল) আর মুখ্যমন্ত্রী উত্তর দিচ্ছেন, ‘যাদবপুরে বন্দেমাতরম চলছে।’ পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের ছবি। কিছু ছাত্র ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে। এহেন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জন্য কেমন যেন ‘কার্নিভাল’ বসেছে। থানার সামনে গেট প্রস্তুত। সুলেখা থেকে থানাগামী রাস্তায় শুধু গলির মুখগুলো ছাড়। যানজটের চাপে এদিন বাসও ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ২১৮ নম্বর বাস সুকান্ত সেতু থেকে ঘুরে যাদবপুর থানার সামনে এসেছে। কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী বলছিলেন, ‘সকালের দিকে যানজট বাঘাযতীন পৌঁছে গিয়েছিল।’ অটোচালকরা বেজায় চটেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এইটবি-র সামনে রাস্তা পুরো বন্ধ। যানজট হবেই। বাস টার্মিনাসের ভিতর দিয়ে গাড়ি ঘোরালেও সমস্যা হবে। নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, আজ মিছিল, কাল ভাঙচুর! যাদবপুর দিয়ে যাতায়াত করাই কঠিন। এক পুলিশকর্মীর কথায়, বুধবার থেকে চলছে। শুক্রবার বিকাল ৪টেয় শুরু, অনুষ্ঠান শেষ হতে সন্ধ্যা। যেভাবে মঞ্চ বাঁধা, খুলতেও সময় লাগবে। সব স্বাভাবিক যে কবে হবে!
এদিন যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিশনের বৈঠক বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে। চেয়ারম্যান হিসাবে ছিলেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারই আবার হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে ফের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী রীতঙ্কর দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ সংক্রান্ত ২০২৫ সালের সেই মামলা আগামী সপ্তাহে শোনা হবে। তবে তদন্ত এখন খানিক ব্যাকফুটে। আগে রাষ্ট্রবাদের পাঠ হবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার মাধ্যমে।