Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে উল্টোরথের শোভাযাত্রায় ভিড় সামলাতে থাকবে প্রচুর পুলিস

উলটোরথের শোভাযাত্রা দেখতে আজ শনিবার বিষ্ণুপুরে জনজোয়ার বইবে বলে অনুমান স্থানীয়দের। আজ সন্ধ্যার পর শহরের কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জ থেকে পৃথক দুই রুটে রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরবে

বিষ্ণুপুরে উল্টোরথের শোভাযাত্রায় ভিড় সামলাতে থাকবে প্রচুর পুলিস
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: উলটোরথের শোভাযাত্রা দেখতে আজ শনিবার বিষ্ণুপুরে জনজোয়ার বইবে বলে অনুমান স্থানীয়দের। আজ সন্ধ্যার পর শহরের কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জ থেকে পৃথক দুই রুটে রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরবে। তা সারারাত ধরে চলবে। নগর পরিক্রমা শেষে রবিবার সকালে দুই প্রভু নিজ নিজ মন্দিরে প্রবেশ করবেন। পরিক্রমণের পথে ঢেলাদুয়ারে রাধালালজীউ ও মদনগোপালজীউ এই দুই দেবতার বছরে একবারই মুখোমুখি আসেন। সেই সময়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঁইসবাজারে টিনের বেড়া দেওয়া হয়। 

Advertisement

বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুপ্রকাশ দাস বলেন, বিষ্ণুপুরে উলটোরথ উপলক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে রথের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন তার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রথের রুট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্রচুর সংখ্যক পুলিস মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামোরায় নজরদারি চালানো হবে। 
কৃষ্ণগঞ্জ আটপাড়া ষোলোআনা কমিটির সভাপতি রবিলোচন দে বলেন, সোজা রথের দিন থেকে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রভুর আরাধনা চলছে।  প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক ও ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। অন্যান্যবারের মতো আজ সন্ধ্যার পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ১০টি চৌদাল, তাসাপার্টি, চন্দননগরের আলোকমালা, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি বাদ্যযন্ত্র থাকবে। 
বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া ষোলোআনা কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা গৌতম গোস্বামী বলেন, বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী রথ প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে চলে আসছে। উলটোরথের শোভাযাত্রা স্থানীয় মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। আজ সন্ধ্যায় মহাপ্রভুর নগর ভ্রমণে ৫টি চৌদাল, ৫টি মাটির রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও চন্দননগরের সুসজ্জিত আলোকমালা এবং হরেক বাদ্যযন্ত্র সহযোগে শোভাযাত্রা হবে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লারাজাদের স্মৃতি বিজড়িত শহরের রথযাত্রায় কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জের আরাধ্য দেবতা যথাক্রমে রাধালালজীউ এবং মদনগোপালজীউ। তাঁদের প্রতীক হিসাবে গরুড় এবং ষাঁড় থাকেন। সোজা রথের দিন সকালে ও রাতে দুই মন্দিরে রথ টানা হয়। রথের রশিতে টান দিতে প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমে। উলটোরথের আগের দিন বকুলকুঞ্জ অনুষ্ঠানে দুই মন্দিরে দেবতাকে সাজিয়ে বিশেষ পুজো করা হয়। অন্যান্য বছরের মতো শহর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও দর্শনার্থীরা আসবেন। কৃষ্ণগঞ্জের শোভাযাত্রা কৈলাসতলা, গোপালগঞ্জ, রসিকগঞ্জ, উকিলপাড়া, ঢেলাদুয়ার হয়ে মন্দিরে ফিরে আসবে। একইভাবে মাধবগঞ্জের শোভাযাত্রা মুচিগলি, বোলতলা, বাহাদুরগঞ্জ, চকবাজার, থানা মোড়, গোয়ালাপাড়া হয়ে মন্দিরে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ