Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিহার থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের ভিড় রাজ্য কনস্টেবলের পরীক্ষায়

রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে লিখিত পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় দেখা গেল কাতারে কাতারে বিহার থেকে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিহার থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের ভিড় রাজ্য কনস্টেবলের পরীক্ষায়
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে লিখিত পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় দেখা গেল কাতারে কাতারে বিহার থেকে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা। হাওড়া শহরের দুটি কেন্দ্রে বিহার থেকে আগত পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো ছিল। পরীক্ষার্থীদের দাবি, বেকারত্বের সমস্যা হু হু করে বাড়ছে বিহারে। তাই সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য এখন বাংলাই ভরসা।

Advertisement

রবিবার রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে প্রায় এগারো হাজার শূন্যপদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হয়। হাওড়া শহরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে মোট ২৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সিট পড়েছিল। মধ্য হাওড়ার নরসিংহ দত্ত রোডের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে দেখা গেল বিহার থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক ভিড়। বিহারের সারং জেলা থেকে আসা সুদামা কুমার বলেন, বিজেপি শাসিত বিহারে এখন চাকরির পরীক্ষা বন্ধই হয়ে গিয়েছে। হাতে গোনা শূন্যপদে বিজ্ঞপ্তি বের হয়। তাই নিরুপায় হয়েই এরাজ্যের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। মূলত ৮৫ নম্বরের বাংলা ও নেপালি ভাষায় এই পরীক্ষা হয়েছে। হিন্দির সঙ্গে মিল থাকায় নেপালিতেই পরীক্ষা দিয়েছেন বিহার থেকে আসা পড়ুয়ারা।
বিহারের ছাপড়া থেকে আসা অনিল কুমার ও সুনীল কুমার বলেন, পশ্চিমবঙ্গে স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এইট পাস কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক পাস ছেলেমেয়েরা সহজেই এই সেক্টরে কাজে ঢুকতে পারে। বিহারে তেমন সুযোগ নেই। বিহারের আরা জেলা থেকে আসা শ্রবণ কুমার বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ। শুধু বিহারেই নয়, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে বেকারত্বের যে অবস্থা, তাতে পশ্চিমবঙ্গে এসেই পরীক্ষা দিতে হবে।
এই পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই ট্রেনে করে হাওড়া বা শিয়ালদহ পৌঁছেছেন এদিন সকালে। আবার বিকেলের মধ্যেই বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবেন।
বড় শিল্পের পাশেই যেমন গজিয়ে ওঠে অনুসারী শিল্প, তেমনি এদিনের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর বাইরেও ব্যাগ রাখার কাউন্টার খুলে রীতিমত হাত গরম করে নিলেন স্থানীয় দোকানিরা। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল, চামড়ার বেল্ট, ব্যাগ কোনও কিছু নিয়েই ঢোকা নিষেধ। তাই নিজেদের যাবতীয় সামগ্রী পরীক্ষার্থীদের রাখতে হচ্ছিল পরীক্ষা কেন্দ্রের উল্টোদিকে থাকা দুটি দোকানে। কুড়ি টাকার বদলে ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা। এক দোকানি বলেন,  ‘দুই ঘণ্টায় আড়াই হাজার টাকা কামিয়ে নিলাম। পরীক্ষা চললে এটাই তো সুবিধে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ